ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের আলোচনা চলমান নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন যে, খুব দ্রুত বড় কোনো পরিবর্তন বা ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। ট্রাম্প জানান, অনেকেই মনে করছেন এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামনে আসবে, তবে বিষয়টি এখন সময়ের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তবে যেভাবেই হোক, খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।’।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো মুহূর্তেই ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধের ইতি টানতে পারে। তবে তিনি এমন এক চূড়ান্ত সমাধান চান যা দীর্ঘস্থায়ী হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামরিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে হারিয়ে দিয়েছে এবং তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না। তিনি যুদ্ধের দ্রুত অবসানের আশা প্রকাশ করলেও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা চেয়েছেন।
এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাগুলোতে আগেও ভেটো দিয়েছেন, তাই এই নতুন হামলার অনুমোদন তিনি দেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আমরা এখনই চলে যেতে পারি, কিন্তু আমরা নিশ্চিত করতে চাই, যেন এটি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।’। চলতি বছরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিভিন্ন পরিকল্পনায় তিনি একাধিকবার ভেটো দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে।
এর জবাবে ইরান বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এর আগে চলতি বছরের জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে সেই সমঝোতা এখন থমকে আছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।