নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একসময় প্রভাব, নেতৃত্ব ও ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তিন আলোচিত ব্যক্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী, অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গিয়াসউদ্দিন। তাঁদের রাজনৈতিক উত্থান, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া, দলীয় অবস্থান পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে তাঁদের প্রত্যেকের রাজনৈতিক জীবনেই রয়েছে নাটকীয় উত্থান-পতনের গল্প।
তিনজনের মধ্যে দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি তাঁদের কেউ কেউ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় অর্জিত প্রভাব ও জনপ্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা বিতর্কও। বর্তমানে তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
তবে তিনজনের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন এখনো বিএনপির রাজনীতিতে ফেরার আশা করছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য। দল তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃত্বে ফিরিয়ে দেবে—এমন প্রত্যাশা তাঁর অনুসারীদের একাংশের। তৈমূর আলম খন্দকারও বিএনপিতে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংগঠক মো. আলীর রাজনৈতিক অবস্থান আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
কিংমেকার মো. আলী: উত্থান থেকে পতনের গল্প
ফতুল্লার পঞ্চবটী এলাকার মো. আলীর রাজনৈতিক উত্থান আশির দশকের শেষ দিকে, এরশাদ সরকারের শাসনামলে। স্থানীয় রাজনৈতিক বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় ফতুল্লার ডিআইটি মাঠের একটি জনসভায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাঁকে ছোট ভাই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি ও প্রভাব বাড়তে থাকে।
বক্তাবলী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা, পাকা রাস্তা নির্মাণে অর্থায়ন এবং স্থানীয় মানুষের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার প্রবণতা ও আর্থিক সহযোগিতার কারণে একটা সময় তিনি ফতুল্লার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. আলী। ওই নির্বাচনে বিএনপির গণজোয়ারের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জয়ী হন প্রয়াত কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম। মো. আলী জয়ী হতে না পারলেও তাঁর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও জনসমাগম রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
১৯৯৫ সালে ফতুল্লার ডিআইটি মাঠের এক সমাবেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মো. আলী। তবে ওই সংসদের মেয়াদ ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত; নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে সংসদ ভেঙে যায়।
পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ী অঙ্গনেও তাঁর প্রভাব বিস্তৃত হয়। দেশের বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করেন তিনি। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তাঁর একটি বড় পরিচয় হয়ে ওঠে—তিনি নিজে নির্বাচনে অংশ নেন বা না নেন, বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ ও রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ কারণেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে ‘কিংমেকার’ হিসেবে অভিহিত করা হতো।
২০০১ সালের নির্বাচনের আগে মো. আলীর সঙ্গে গিয়াসউদ্দিনের যোগাযোগ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে গিয়াসউদ্দিন বিএনপিতে যোগ দেন এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে শামীম ওসমানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচনের পর মো. আলী ও গিয়াসউদ্দিনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
২০০৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সেনাবাহিনীকে সরকার পরিচালনায় যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মো. আলীর বক্তব্যও আলোচনায় আসে। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তাঁর ওই বক্তব্যকে অনেকে সম্পর্কিত করে দেখেন। তবে তাঁকে এককভাবে ওয়ান-ইলেভেনের প্রবর্তক হিসেবে আখ্যায়িত করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও দলীয় সমীকরণের কারণে তাঁর প্রভাব ক্রমে সংকুচিত হয় বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
২০২৫ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে হাতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত সিদ্ধান্ত। নির্বাচনে পরাজয় এবং জামানত হারানোর ঘটনা তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে। অনুসারীদের একাংশের মতে, অভিজ্ঞ রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তাঁর আরও সতর্ক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। সমালোচকদের মতে, এই নির্বাচন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের অর্জিত ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে পরিচিত ‘মজলুম নেতা’ হিসেবে। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর তিনি বিআরটিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। দলীয় রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
দলের কঠিন সময়ে তাঁর ভূমিকা ও সাংগঠনিক তৎপরতা তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। তবে রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিয়েও নির্বাচনের ঠিক আগে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরে দাঁড়ান তৈমূর আলম খন্দকার। ওই ঘটনায় দলীয় আনুগত্যের পরিচয় দিয়েছেন বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যায়।
২০২২ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটি থেকে সরে দাঁড়ান বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—বিএনপিতে কি আবারও ফিরতে পারবেন তিনি? তাঁর অনুসারীদের ধারণা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি সম্পর্কে গভীর ধারণার কারণে দল চাইলে তাঁকে আবারও কাজে লাগাতে পারে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিএনপিতে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও তা নির্ভর করবে দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক প্রয়োজন এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর।
গিয়াসউদ্দিন: প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন, নাকি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা?
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গিয়াসউদ্দিনও এক রহস্যময় ও আলোচিত চরিত্র। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার দল ও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ঘটনা রয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এরশাদ সরকারের আমলে জাতীয় পার্টির সমর্থনে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শামীম ওসমান।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দেন গিয়াসউদ্দিন। নির্বাচনের মাত্র ১৭ দিন আগে দল পরিবর্তনের পর বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। নির্বাচনে শামীম ওসমানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় সাফল্য।
তবে নির্বাচনের পর মো. আলী ও গিয়াসউদ্দিনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে অভিযোগ রয়েছে, দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ফতুল্লার বিএনপির একাংশের সঙ্গে বিরোধ, মামলা-পাল্টা মামলা এবং সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে জটিল করে তোলে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আদালতের নথি যাচাই করা জরুরি।
তৈমূর আলম খন্দকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও সব সময় মসৃণ ছিল না। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার, দলীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয় ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধের কথা আলোচিত হয়েছে। ব্যবসায়ী সাব্বির আলম খন্দকার হত্যাকাণ্ডের মামলায় গিয়াসউদ্দিনের নাম আসার বিষয়টিও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর একটি। তবে মামলায় আসামি হওয়া আর আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গিয়াসউদ্দিন গ্রেপ্তার হন বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সম্পদ অর্জন ও অন্যান্য অভিযোগের কথাও আলোচিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
পরবর্তী সময়ে তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃত্বে গিয়াসউদ্দিনের উত্থান ঘটে। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। তবে নেতৃত্বে আসার পর পুরোনো সহযোগীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং দলের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁর কিছু বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন অনেকে। এ ছাড়া বিএনপির মনোনয়ন ও দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দুটি আসনে মনোনয়ন সংগ্রহের বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে। বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর নির্বাচনে পরাজয় ও জামানত হারানোর ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়ে দেয়।
তবে গিয়াসউদ্দিন এখনো রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি হাল ছাড়েননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের দাবি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএনপি একসময় তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর অনুসারীদের কেউ কেউ প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একটি সূত্রের বরাতে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে দাবি করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ভুল সিদ্ধান্তই কি শেষ করে দিচ্ছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার?
মো. আলী, তৈমূর আলম খন্দকার ও গিয়াসউদ্দিন—তিনজনের রাজনৈতিক জীবনের পথ আলাদা হলেও তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু মিল রয়েছে। একসময় তাঁরা ছিলেন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচিত ক্ষমতাকেন্দ্র। তাঁদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করত দলীয় সমীকরণ, প্রার্থী নির্বাচন এবং স্থানীয় রাজনীতির গতিপথ।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে। দলীয় আনুগত্য, ব্যক্তিগত বলয়, নির্বাচনী কৌশল এবং নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুই তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মো. আলীর ক্ষেত্রে বয়স, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয় বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। তৈমূর আলম খন্দকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ বিএনপিতে প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করা। আর গিয়াসউদ্দিনের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা দলীয় বহিষ্কারাদেশ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা পুনরুদ্ধার।