চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দীর্ঘ সময় ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে মন্ত্রণালয় তদন্ত অথবা পরামর্শক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে ইউজিসির সদস্য পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। কমিটির কাজ হবে বর্তমান সংকটের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা এবং সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এই অস্থিরতার সূচনা হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর, যখন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি এবং অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্তমানে পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে।
আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরোধিতার মধ্যেই ১২ অক্টোবর সকালে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তিনি ছাত্রদল নেতাদের সহযোগিতায় উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় ত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়ার পর, আন্দোলনকারীরা ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন এবং ভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ভবনে তালাবদ্ধ অবস্থায় উপাচার্যসহ ১১ জন কর্মকর্তা প্রায় ৩০ ঘণ্টা আটকা পড়ে ছিলেন। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় পরদিন উপাচার্য অসুস্থ বোধ করেন এবং চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করেন। দীর্ঘ এই অবরোধের পর তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার ছাড়া পাওয়ার পর, শুক্রবার নগরের সার্কিট হাউসে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার আয়োজন করেন। বর্তমানে এই পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সমাধানের পথ খুঁজতে মন্ত্রণালয় কমিটির এই নির্দেশনা প্রদান করেছে। ভবনে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ভেতরে ১১ জন আটকে পড়েন। তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যান দুই চিকিৎসক।