সংবাদচর্চা রিপোর্ট :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনয়ন ঘোষণা করেছে। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে রূপগঞ্জের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জটিল সমীকরণ। এই আসনে দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন মনোনয়ন যুদ্ধে । তাদের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান আরেকজন তরুণ উদীয়মান নেতা মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুঁইয়া । সম্প্রতি মনোনয়ন ঘোষনার পর থেকে এক ধরণের অসস্তি দেখা দিয়েছে কাজী মনিরুজ্জামনের শিবিরে। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর কাজী মনিরুজ্জামান শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা হাট -ঘাট , টেম্পু স্ট্যান্ড ,মিল ফ্যাক্টরীর দখলে ছিলো তারা রাতারাতি নিজেদের ব্যানার সড়িয়ে দিপু ভুঁইয়াকে ফুল দিয়ে নিজেদের অবৈধ ব্যবসা ও দখলবাজি টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অপরদিকে যারা প্রকৃত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী তারা অনেকেই দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে দিপুর মনোনয়নকে স্বাগত জানিয়ে তার সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যে মনোনয়ন বঞ্চিত কাজী মনিরুজ্জামান তার নিজ বাসায় নেতাকর্মীদের নিয়ে মনোনয়ন পরবর্তী কাযক্রম কি হতে পারে তা নিয়ে বিস্তর খোলামেলা আলোচনা করেন। এসময় দিপু ভুঁইয়া অনুষ্ঠানের মাঝখানে উপস্থিত হলে তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি । এসময় কাজী মনিরুজ্জামান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন ধানের শীষ প্রতিকের জন্য তিনি জীবনের শেষ মূহুর্ত পযন্ত লড়াই করে ধানের শীষকে বিজয়ী করে ঘরে ফিরবেন। একইদিকে দিপু ভুঁইয়া নির্বাচন পরিচালনার জন্য কাজী মনিরুজ্জামানকে দায়িত্ব প্রদান করেন। যেনো তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করে ঘরে ফিরতে পারেন। মনোনয়ন ঘোষনার পর থেকে দীপু শিবিরে যেমন বইছে আনন্দ উল্লাস ঠিক তার বিপরীতে কাজী মনিরের শিবিরে হতাশা, ভুলবোঝাবুঝি ও সিদ্ধান্তহীনতা বাড়ছে । রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন আগামী সংসদ নির্বাচনে যারা দীর্ঘদিন দিপুর বলয়ে রাজনীতি করছে তারা কতটুকু গ্রহণ করতে পারবে কাজী মনিরের অনুসারীদের তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ । কেননা ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কযেকবার দ্বন্দ্বে সংঘষে জড়িয়ে পড়ে দুই গ্রুপ। তবে এখনও কাজী মনিরের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে তার অনেক অনুসারী। মূলত হাট- ঘাট, দখলবাজরা দ্রুত ভোল্ট পাল্টালেও অধিকাংশ অনুসারীরা এখনও দ্বিধা দ্বন্ধে রয়েছে। এদিকে তারাবো পৌরসভায় রয়েছে লক্ষাধিক ভোটার তাই আগামী নির্বাচনের ফলাফল কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করবে এই পৌরসভার ভোটারদের উপর। তাই বেশ জটিল সমীকরণ কষতে হবে দিপু ভুঁইয়াকে । তবে ৫ আগষ্টের পূর্বে থেকেই এই হিসাব কষে রেখেছেন দিপু ভুঁইয়া। তারাব পৌর কমিটিসহ সকল ওয়ার্ড কমিটি তিনি আগেই করে রেখেছেন নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য । কাজী মনিরুজ্জামানের বাড়ি তারাব পৌরসভায় হওয়ার ভোটারদের উপর তার প্রভাব অনেকটাই বেশী। তাই এখানে সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে। দিপু ভুঁইয়ার হাতিয়ার হিসেবে এখানে কাজ করছে তারাব পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক ওসমান , সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান পিন্টু , তারাব পৌর যুবদলের আহবায়ক আফজাল কবীর , তারাব পৌরসভার সাবেক মেয়রের ছেলে মাহমুদ সিয়াম, পৌর বিএনপির সদস্য আমিনুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সহ সভাপতি মোজাম্মেল হক ফারহান, সাংগঠিক সম্পাদক আরিফ হাসান আরব । অন্যদিকে কাজী মনিরুজ্জামানের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত তারাব পৌরসভা দখলে রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক নাসির উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সহ সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ, তারাব পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব রিপন ভুঁইয়া , বিএনপি নেতা হাফেজ আহমেদ, তারাব পৌর যুবদলের সদস্য সচিব কাজী আহাদসহ অনেকে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘনিষ্ট আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালক লুতফর রহমান বাদলের অনুসারী তারাব পৌরসভার সাবেক মেয়র সফিকুল চৌধুরী নিজেকে আলাদা বলয়ে রেখেছেন। ইতিমধ্যে দিপু ভুঁইয়ার পক্ষ থেকে তারাব পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক ওসমান ও তারাব পৌর যুবদলের আহবায়ক আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে দুইটি টীম কাজী মনিরুজ্জামানের অনুসারীদের সাথে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছেন। দিপু ভুঁইয়া বলয়ের নেতাকর্মীদের ছাড় দেওয়ার মনমানসিকতা ও কাজী মনিরুজ্জামানের বলয়ের নেতাকর্মীদের প্রকৃত সম্মান ও ভালোবাসা এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামানের স্বদিচ্ছাই পারে তারাবতে দিপু ভুঁইয়ার জটির সমীকরণ সহজ করতে।

