, ,

খোরশেদ-রাজীব দুই দিকে

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে  ইসলামী মহা সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে।  শনিবার (১লা ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মা‌ঠে এ সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশ বরেণ্য আলেম আল্লামা আহমদ শফী। তিনি গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে আহমদ শফির আগমনকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির একটি অংশ। তার মধ্যে রয়েছে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব। তিনি আহমদ শফিকে ইঙ্গিত করে এক ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে রাজীব যা লিখেছেন তা হুবাহুব তুলে ধরা হলো:- ‘কেউ একবার নবীজিকে শাহবাগ থেকে অপমান সূচক কথা বলায় আন্দোলন ডাক দিয়েছিলেন সারা দেশবাসী যোগ দিয়েছিল কিন্তু উনি আসেননি। বাজারে এর বিনিময়ে অনেক সুবিধা নেয়া হয়েছে সরকারের থেকে এমন কথাও শোনা যায়। যারা শেষ নবীর পরে অন্যনবী আছে এমন উদ্ভট কথা মানে তারা আর যাই হোক না কেন মুসলমান হতে পারেনা এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট। তাই কাদিয়ানি নামক এই ভন্ডদের নিয়ে মাথা ঘামানো সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। তবে আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায় এই ইস্যু নিয়ে আবার সরকারের কাছ থেকে কোন সুবিধা নেয়ার পাঁয়তারা নাতো? কারণ উনার কারণে ৫ টা মামলা খেয়েছি আর উনাদের নাম সরকার চার্জশীট থেকে বাদ দিয়েছে উপরন্তু সুবিধা তো আছেই।

রাজীবের কথায় এখন প্রশ্ন জাগছে ঐ ইসলামী মহাসম্মেলন করে কাদের সুবিধা আছে? কারা সুবিধা ভোগ করছে? সেই সম্মেলনের সার্বিক পরিচালনায় ছিলো নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি ও নাসিক ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তিনি মুসুল্লিদের অজু করার জন্য প্রায় ৫০০ পানির কলের ব্যবস্থা করেছিলেন।  অস্থায়ী ৫০টি টয়লেট নির্মাণ, পঞ্চবটী থেকে চাষাড়া পর্ষন্ত রাস্তার উভয় পাশ পরিস্কারসহ খাবার পানির ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি । এছাড়াও সম্মেল‌নে খোরশেদ বক্তব্যও দিয়েছিলেন।

তাহলে কি বিএনপি দেশবরেণ্য আলেম আল্লামা আহমদ শফিকে শত্রু মনে করে? সেই প্রশ্ন এখন ঘুর পাক খাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়ে।নাকি কাউন্সিলর খোরশেদের মহৎ কাজ দেখে গাঁ জ্বলছে মাসুকুল ইসলাম রাজীবের।

রাজীবের ঐ ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেছে, এক সময় হেফাজত ইসলামকে ব্যবহার করে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চেয়েছে । আর হেফাজত ইসলাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তারা ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ।