, ,

অবহেলিত নারী সমাজের পাশে থাকার আহ্বান লিপি ওসমানের

সংবাদচর্চা রিপোর্ট২৪:
নারায়ণগঞ্জ শহরের অভিজাত এলাকা প্রেসিডেন্ট রোডে বহুতল ভবন মমতাজ মহলে তরিনী’স কিচেন নামে আধুনিকমানের একটি খাবার রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যন ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের সহধর্মিনী সালমা ইসলাম লিপি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শারমীন হাবিব বিন্নি।

বিকেল চারটায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান। এর আগেই অন্যান্য অতিথিরা এসে উপস্থিত হয়ে তাদের অপেক্ষায় থাকেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ফুল দিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেন তরিনী’স কিচেনের দুই যৌথ স্বত্ত্বাধিকারি (ওনার) তরিনী চৌধুরি ও মাহফুজা আক্তার মুন্নিসহ পরিবারের সদস্যরা। এসময় উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে স্বাগত জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধান অতিথি সালমা ইসলাম লিপি বলেন, আমি অনেক আনন্দিত যে আমাদের নারায়ণগঞ্জের শিক্ষিত নারী সমাজ এখন আর পিছিয়ে নেই। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমান তালে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। লেখাপড়া ও সংসারের কাজের পাশাপাশি শিক্ষিত মেয়েরা তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করে পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারছে।

তরিনী’স কিচেনের পরিচালকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি আশা করি তোমরা অনেকদূর এগিয়ে যাবে। খাবারের মান উন্নত ও পরিবেশ যদি পরিচ্ছন্ন থাকে তাহলে অবশ্যই এই প্রতিষ্ঠানটি স্বল্প সময়ের মধ্যে সবার আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

লিপি ওসমান বলেন, তোমাদের প্রতি আমার অনেক দোয়া রইলো। তোমরা নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের অবহেলিত নারী সমাজের পাশে থাকবে এই প্রত্যাশা করছি। বক্তব্য শেষে কেক ও ফিতা কেটে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি সালমা ইসলাম লিপি।

নতুন ব্যবসা সম্পর্কে তরিনী’স কিচেনের স্বত্ত্বাধিকারি তরিনী চৌধুরি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, নানা ধরণের চাইনিজ খাবারের পাশাপাশি সব ধরনের ফাস্টফুড খাবার, নানা প্রকারের ভিন্ন স্বাদের জুস, আইসক্রীমসহ নিজস্ব সেফ দ্বারা বিশেষ কিছু মুখরোচক খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। তরিনী চৌধুরি বলেন, খাবারের গুনগত মান ও স্বাদের বিষয়টিকে আমরা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি যাতে প্রথমবার কেউ এই রেস্টুরেন্টে খেতে এসে দ্বিতীয়বারও আসেন।

তরিনী চৌধুরি আরো জানান, ক্রেতাদের সুবিধার্থে ফেসবুকে নিজস্ব পেইজের মাধ্যমে অনলাইন সার্ভিস সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী পার্সেল সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আশা করি ক্রেতারা খুব স্বাচ্ছন্দে এখানে বসে খাবার তাদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার খেতে পারবেন এবং নিয়েও যেতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানটির অপর স্বত্তাধিকারি মাহফুজা আক্তার মুন্নি বলেন, পরিবারের সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় আমরা খালা ভাগ্নি মিলে এই রেস্টুরেন্ট করার উদ্যোগ নিয়েছি। অমরা চেষ্টা করব খাবারের মান অন্যান্য রেস্টুরেন্টগুলোর তুলনায় আরো মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্যই থাকবে সেবার মান ধরে রাখা। সবাই সহযোগিতা করলে আমরা ইনশাল্লাহ সফল হবো।

এর আগে শুক্রবার জুম্মা নামাজের আগে মিলাদ ও দোয়ার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় রীতি মেনে তরিনী’স কিচেনের রান্নার কাজ শুরু করা হয়। উন্নতমানের খাবার তৈরি করতে বিশেষ পারদর্শী অভিজ্ঞ সেফও নিয়োগ করা হয়েছে।