নিজস্ব প্রতিবেদক:
আমরাতো জানি যে সেদিন কি ঘটেছিলো নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু আমাদের পরবর্তী প্রজম্ম কীভাবে জানতে পারবে ওই ঘটনার কথা। তারাতো ওই সৃতিস্তম্ভ দেখেই শিখবে। ওই সৃতিস্তম্ভ দেখেই তারা জানতে পারবে যে সেদিন কারা প্রাণ হারিয়েছিলো। এভাবেই শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষগুলো আলোচনা করছিলো সেই বিষয়টি নিয়ে। আজ থেকে আরও ১৮ বছর আগের কথা।
২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ার আওয়ামী লীগ অফিসে বর্বরোচিত বোমা হামলা হয়েছিলো। যেই হামলাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২০ জন মানুষ। অনেকেই আহত হন, আবার অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করেন।
অনেকেই সেদিনের সেই নারকীয় ঘটনার কথা ভুলে গেছে। আবার অনেকেরই মনে আছে। তবে স্মরণ করার জন্য চাষাড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরী করা হয়। যাতে নিহত ২০ জনের নাম লেখা আছে। ওই স্তম্ভ দেখেই অনেকের মনে পরে সেই বর্বরোচিত হামলার কথা। কিন্তু সেই স্তম্ভ অটুট থাকলেও নেই সেখানে লেখা নিহত ২০ জনের নাম। কারণ স্তম্ভ তৈরী করার পর অনেকদিন যাবৎ সেটি সংস্কার করা হয়নি। যার ফলে প্রায় নামগুলো মুছে গেছে। অনেকের মতে, কৃর্তপক্ষ অন্ধ! এই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তাদের চোখে পরবে না।
গতকাল সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করার উদ্দশ্যে তৈরী করা স্তম্ভের ভিতর থেকে প্রায় সব নামগুলো মুছে গেছে। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী হাসনাত বিথি বলেন, এই প্রধান বিষয় গুলো সবসময়ই কৃর্তপক্ষের দৃষ্টিতে রাখা উচিৎ। ২০০১ সালের সেই বর্বরোচিত হামলায় ২০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তাদের নাম গুলো স্মরণে রাখার জন্য শহীদ মিনারে একটি স্তম্ভ তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু তার কোন সংস্কার নেই। কিন্তু কেন? প্রত্যেকটি নাম স্তম্ভ থেকে প্রায় মুছে গেছে। অতি শীঘ্রই এগুলোর সংস্কার দরকার। কারণ সেই বর্বরোচিত হামলা নগরবাসীর মনে রাখার জন্য এই একটি স্তম্ভই রয়েছে। তাই পুনরায় স্তম্ভে নামগুলো আবার লেখা প্রয়োজন।
কৃর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে স্যামসাং কোম্পানিতে কর্মরত ইকবাল হোসেন বলেন, অতি শীঘ্রই এই বিষয়ে কৃর্তপক্ষে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কারণ পরবর্তী প্রজম্মের জন্য এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূণ। কারণ আমারাতো কমবেশী সবাইয় জানি যে ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাড়ায় বর্বরোচিত বোমা হামলা হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তী প্রজম্ম কিভাবে জানবে? তারা এই সৃতিস্তম্ভ থেকেই শিখতে পারবে। জানতে পারবে কে কে সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলো। তাই অতি শীঘ্রই এই সৃতিস্তম্ভর নামগুলো আবার পুনরায় লেখা দরকার।
এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর কাছে জানতে চেয়ে তার মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, আমি এই বিষয়ে জানিনা। তবে, খুব শীঘ্রই কৃর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষেনের মাধ্যেমে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।