নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ডিএনডি’র অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে নিরসনের আশায় প্রহর গুনছেন লাখো বাসিন্দা।
ডিএনডি এলাকার অভ্যন্তরে অবস্থিত বেদখল হয়ে যাওয়া সকল খাল ও জলাশয় উদ্ধার, পানি নিষ্কাশণের কাজে ব্যবহৃত অকেজো পাম্পগুলো সচল করে দ্রুত পানি নিষ্কাশণের ব্যবস্থা করা, পরিকল্পিত ড্রেন ও রাস্তাগুলো সংস্কার ও একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবী জানান স্থানীয়রা।
ইতিমধ্যেই, জলাবদ্ধতা দূর করতে সরকার ৫ শ’ ৫৮ কোটি টাকা বাজেটের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু হয়েছে।
গতকাল কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ডিএনডির বিশাল এলাকায় এতোটাই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের আঙ্গিনায়ও জমেছে হাটু পানি। এছাড়া বৃহত্তর ইসদাইর, ইসদারই বাজার, কাপুইরা পট্টি, পশ্চিম ইসদাইর, বুড়ির দোকান ও গাবতলী মাজার এলাকা সহ বিশাল এলাকার মানুষ চরম দূর্ভোগে পতিত হয়েছে। এসব এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় সাধারন মানুষের বাড়িঘরতো বটেই এলাকার বহুতল ভবনগুলিরও নিচতলায় পানি হাটু সমান বা কোন এলাকায় তারও বেশি পরিমান পানি।
বৃষ্টিতে এতো বেশি পরিমান পানি জমার ফলে গোটা এলাকা জুড়ে ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই সব এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুলসহ সব কিছু বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের মুদি দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার টাকার মালামাল। তাই ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ একেবারে দিশেহারা হয়ে পরেছে। ফলে সাধারন মানুষের মাঝে বিরাজ করছে চরম আতংক।
এলঅকাবাসীর কয়েকজন জানান, তাদের এলাকায় গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। অথচ তারা আশা করেছিলেন এবার জলাবদ্ধতা হবে না। কারন সরকার এই জলাবদ্ধতা নিরসনে মোটা অংকের টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। শুনেছি সেনাবাহিনী ৫/৬শ’ কোটি টাকার কাজ শুরু করেছে। কিন্তু এবারতো দেখি পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। আমরাতো একেবারেই অসহায় হয়ে পরেছি। তাই আমরা অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং যারা এই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি বলেন আপাতত পানি যাতে সরে যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। স্থায়ী ব্যবস্থা পরে করলেও চলবে।
এলাকাবাসী জানায়, আপনারা দেখুন আমাদের মসজিদ এবং স্কুলও ডুবে গেছে। আমরা রমজানে নামাজ পরতে পারছি না। ছোট ছোঠ কোমলমতি শিশুদের লেখ পড়া বন্ধ। আমাদের বাজার ডুবে যাওয়ায় আমরা খাবার সংগ্রহ করতে পারছি না। তাই সরকারের উচিৎ প্রয়োজনে আরো অধিক সংখ্যক লোক নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে এই জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচানো।


