আজ শনিবার, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জনতার আদালতে এমপি গাজী ,কোন প্রকার দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেব

কোন দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে

কোন দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে

সংবাদচর্চা রিপোর্ট: বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ,জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক ব্যতিক্রমধর্মীয় অনুষ্ঠান জনতার আদালতে গতকাল ২২ শে মে নারায়ণগঞ্জ  ১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক হাজির হয়।

সাংবাদিক জাকারিয়া কাজলের সঞ্চালনায় বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের অতিরিক্ত এটর্নী জেনারেল এড.জেয়াদ আল মালুম ।

এ সময় সাংবাদিক ও দর্শকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

জাকারিয়া কাজল প্রশ্ন করেন আপনার এলাকায় গত ৯ বছরে আপনি কি বড় ধরণের কাজ করেছেন?

জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, আমার এলাকার সবচেয়ে বড় উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে ভূলতা ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ। ফ্লাইওভার নির্মাণ হলে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে। সারা রূপগঞ্জে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি উন্নয়ন করা হয়েছে।

জাকারিয়া কাজল প্রশ্ন করেন, আগামী নির্বাচনে আপনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন নির্বাচিত হওয়ার পরে কি করবেন?

জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী : প্রথমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। আমাদের বর্তমানে কিছু সংসদ সদস্যদের নামে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে ।আমার নামে কেউ যদি এক টাকার দুর্নীতির  প্রমাণ দিতে পারে আমি সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেবে।

দর্শক সারি থেকে একজন প্রশ্ন করেন আপনি শিল্পপতি ও একজন ব্যবসায়ি হয়ে কেন রাজনীতিতে আসলেন?

জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন,আমি ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন,ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেছি এবং বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি। কিন্তু দুঃখের বিষয় ১৯৭৫ সালে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার করা হয় ,যাদের বিরুদ্ধে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশ স্বাধীন করেছি সেই স্বাধীনতা বিরোধীরাই বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে আমি ব্যবসা ছেড়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতিতে  ফিরে আসি।

সাংবাদিক জাকারিয়া প্রশ্ন করেন,আপনার নির্বাচনী এলাকায় আপনি দলীয় নেতাকর্মীদের সবচেয়ে বেশি মামলা দিয়েছেন কেন দিয়েছেন?

অপরাধী যে দলেরই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে এটা ভেবে কি?

জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, জনগণের সেবা করাই জনপ্রিতিনিধিদের কাজ। সেবা করতে গিয়ে যদি স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি করি তাহলে জনগণের প্রকৃত সেবা করা যায় না। যারা অপরাধী তাদের নামে মামলা দিয়েছে বাদী পক্ষ আমি নই। একটি চক্র আমার উন্নয়ন দেখে ঈষাণ্বিত হয়ে মিথ্যাচার শুরু করে দিয়েছে। আর একাধিক নেতা থাকলে প্রতিযোগিতা থাকবেই।

দর্শক সারি থেকে প্রশ্ন করেন ,আপনার এলাকায় নারীরা বর্তমানে কি অবস্থায় আছে, ইভটিজিং দমনে আপনার করণীয় কি?

জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন,সারা বাংলাদেশের চেয়ে রূপগঞ্জের নারীরা নিরাপদ রয়েছে। এখানে ইভটিজিং হচ্ছে না। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী ,স্পিকার নারী,বিরোধীর দলীয় নেত্রী নারী ।দেশের উন্নয়নে নারীকে বাদ দেওয়া যাবে না।

সাংবাদিক জাকারিয়া প্রশ্ন করেন,আপনার এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক আছে কি?

জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, রূপগঞ্জের প্রত্যেকটা এলাকায়  কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। এলাকাবাসিরা লাইনে দাড়িয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে।

দর্শক সারি থেকে একজন প্রশ্ন করেন, মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সরকারি করণ হয়েছে কিন্তু এখনো কাজের অগ্রগতি নেই কেন?

জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, আমি যখন মুড়াপাড়া কলেজকে সরকারিকরণ করি তখন ছাত্র ছাত্রী ছিলো ৫০০ জন সরকারিকরণের পরে ছাত্রছাত্রী হয়েছে ৪০০০। টিন দিয়ে ঘর তুলে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। সরকার যেহেতু সরকারিকরণ  করছে ভবণ ও নিমাণ করে দেবে।

জাকারিয়া প্রশ্ন করেন, আপনার এলাকায় প্রতিবন্ধীদের জন্য কি কাজ করছেন?

জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি স্কুল করে দিয়েছে। সেখানে প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করছে।

দর্শক সারি থেকে একজন প্রশ্ন করেন, আপনি কিছু দিন আগে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ২২ বিঘা জমি উদ্ধার করেছেন ? সেখানে কি করবেন? আপনি অনেক ক্রীড়া প্রেমিক  রূপগঞ্জে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করে দিবেন কি?

জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বর্তমান সরকার সারা দেশের প্রতিটা উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। রূপগঞ্জে আমার কাছে থেকে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা জন্য জয়গা চেয়ে ছিলো তখন জমি দিতে পারি নাই। উদ্ধারকৃত ২২ বিঘা জমির উপর স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।

দর্শক থেকে আরেক জন প্রশ্ন করেন আপনার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আপনি কোন কাজ করবেন কি ?

জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করে যাচ্ছি।ভবিষতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

গোলাম দস্তগীর গাজী জনতার আদালতে হাজির হয়ে সকল প্রশ্নকারিদের প্রশ্নের জবাব সঠিকভাবে দিয়েছেন এবং রূপগঞ্জকে নিয়ে তার ভবিষৎ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন।

জনতার আদালতে রূপগঞ্জের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধারা হয়। রূপগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেয়।