চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকা থেকে গোপন বৈঠকের প্রস্তুতিকালে পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে তাকে আটক করা হয়। বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) তাঁকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নগরের জিইসি মোড় এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে খুলশী থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এই নেতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হামলা, হত্যাচেষ্টা ও নাশকতার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তার বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়ের করা হয়। এর আগেও বাকলিয়া থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি একাধিকবার আটক হয়েছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে পটিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন আবুল কাশেম। তিনি পটিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। টানা কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে স্থানীয়দের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশও অভিযোগ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে টেন্ডার ও জমি দখলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ও পরবর্তীতে সহিংসতার সাথেও তার অনুসারীরা জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রভাবশালী কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের ভাগিনা হিসেবে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এবং পরবর্তী সময়েও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।