, ,

সিরিজ বাঁচাতে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কাউকেই বিমোহিত করবে। এখানকার মনোরম পরিবেশে অনুশীলনের শুরুতে ক্রিকেটারদের কিছুটা ছবি তোলার আমেজ দেখা গেলেও, মাঠের লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশ দলের কণ্ঠে স্পষ্ট সিরিয়াসনেস বা গম্ভীর মনোভাব। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরের দৃশ্যটা অবশ্য ছিল বিপরীত। প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে ক্যারিবীয়রা বেশ ফুরফুরে মেজাজে অনুশীলনে সময় কাটিয়েছে, যা তাদের সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাসই বাড়িয়ে দিচ্ছে। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের মধ্যে এই আনন্দের ছোঁয়াটা একটু বেশিই দেখা গেছে। সিলেটের সবুজ মাঠে মঙ্গলবার দুদলের অনুশীলনের ছবিটি ছিল দুরকম। কখনো শিষ্যদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা, কখনো খুনসুটি। সিলেটেও জিতে সিরিজ ২-০ করার স্বপ্ন দেখছে তারা। কিন্তু মিরপুরের প্রথম টেস্টে সে হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মিরপুর টেস্টে আট উইকেটের বড় ব্যবধানে হারার ক্ষত এখনও সতেজ। সে ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং কিংবা ফিল্ডিং, কোনো বিভাগেই বাংলাদেশ নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। ২৭২ রানে প্রথম ইনিংস শেষ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। সিরিজের শেষ ম্যাচে তাই বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ পরিষ্কার—জিততেই হবে। এই ম্যাচে জয় না পেলে দেশের মাটিতে আরেকটি টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার লজ্জায় পড়তে হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। দুই হাত প্রসারিত করে তার দাঁড়ানোর ভঙ্গিটাও যেন আরেকটি জয়ের আগাম ঘোষণা। সিরিজ শুরুর আগে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের ফেভারিট তকমা। অভজ্ঞতার ঘাটতি যেন পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলেÑসেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

আগামী ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচটি শুরু হবে। এই ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডারে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটারদের। টপ অর্ডারকে শক্ত ভিত গড়ার পাশাপাশি মিডল অর্ডারেরও রানের চাকা সচল রাখতে হবে। অন্তত ৪০০ রানের কাছাকাছি স্কোর দাঁড় করাতে পারলে বোলাররা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সুযোগ পাবেন। ইনজুরি কাটিয়ে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ফেরা দলের জন্য স্বস্তির হলেও কনকাশনের কারণে মুমিনুল হকের ছিটকে পড়া বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এলে চারপাশ দেখার পর সবাই প্রথম যে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তা হলো ছবি তোলা। নাঈম হাসান লোয়ার অর্ডারে হাফ সেঞ্চুরি না করলে পরিস্থিতি আরো বিব্রতকর হতে পারত। ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। শুধু উইকেটে টিকে থাকলেই হবে না, রানও তুলতে হবে।

সিলেটের উইকেট প্রসঙ্গে দলে নতুন আসা অমিত হাসান জানান, এখন পর্যন্ত উইকেট দেখে ঘাসের আস্তরণ মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মুমিনুল ভাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে কনকাশনের কারণে দলে নেই। আমার যদি খেলার সুযোগ আসে, তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেভাবে খেলে আসছি, সেই প্রক্রিয়া মেনেই খেলার চেষ্টা করব।’ অমিতের মতে, উইকেট নিয়ে চূড়ান্ত ধারণা পেতে আরও কয়েকদিন সময় প্রয়োজন।

মিরপুরে স্পিননির্ভর উইকেটের পরিকল্পনা বুমেরাং হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। সিলেটে উইকেট বুঝে বোলিং পরিকল্পনা সাজাতে হবে এবং পেসার ও স্পিনার উভয়কেই সঠিক লাইন-লেংথে বল করে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ ছাড়া বা বাড়তি রান বিলিয়ে দেওয়ার মতো ভুলগুলোও কমাতে হবে।

টেস্ট ক্রিকেটে একটি পরাজয় শেষ কথা নয়—এই বিশ্বাস নিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের। ঢাকা টেস্টের হতাশা পেছনে ফেলে সিরিজের শেষ পরীক্ষায় নিজেদের সামর্থ্যের সঠিক প্রতিফলন ঘটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাটে-বলে পুরোনো বাংলাদেশের চিরায়ত ছন্দ ফিরে পেলেই সিলেটে ক্রিকেটের জয়গান গাওয়া সম্ভব হবে স্বাগতিকদের জন্য। প্রত্যেকের চোখে-মুখে ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ। সিলেটে তাই বাংলাদেশের চাওয়া একটাইÑঢাকার দুঃখ ভুলে ক্রিকেটের সুখ খুঁজে পাওয়া। সিলেটে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সবার আগে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে বাংলাদেশকে।