
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: রূপগঞ্জের পার্শ্ববতী ডেমরার মান্নান হাইস্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি গোলাম মোর্শেদ অরুণের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা অর্থ আত্বসাতের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেড় কোটি টাকার উপরে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ও প্রাথমিক শাখার সদস্য আরিফ মোল্লার যোগসাজসে তিনি এ অর্থ আত্বসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য খালেদ আহমেদ জানান, তার পিতা হাজী আব্দুল মান্নান মান্নান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১১ইং সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গোলাম মোর্শেদ অরুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হন। এরপর অদ্যাবধি কোন নির্বাচন হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ২ হাজারের বেশী শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া ৮০টি দোকান ভাড়া , ফুটপাত থেকে আয় উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি, বেতন, সেশন ফি, আদার চার্জ, দোকান ভাড়া, ফুটপাতের আয় থেকে বছরে ২ কোটি টাকারমত অর্থ আয় হয়। এসব অর্থ আদায়ে অনেক ক্ষেত্রে ভূয়া ভাউচার বানিয়ে অর্থ আত্বসাতের অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৬০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন এম,পি,ও ভূক্ত ও কলেজ শাখায় ৫ জন নিয়মিত নিয়োগে রয়েছেন। বাকি সব শিক্ষিক-শিক্ষিকার কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিয়ে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন গোলাম মোর্শেদ অরুণ।
আর এদের বেশীর ভাগই অরুনের আত্বীয় স্বজন। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ৪০ জনের বেশী শিক্ষক প্রয়োজন নেই। প্রতিষ্টানটির কোটি কোটি টাকায় আয় থাকলেও বর্তমানে ২ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। সাবেক অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ও প্রাথমিক শাখার সদস্য আরিফ মোল্লার যোগসাজসে গোলাম মোর্শেদ অরুণ অনিয়ম ও দূর্নিতীর মাধ্যমে অদ্যাবধি এক কোটি ৫৭ লাখ ৩২ হাজার ৮ শত ৩৯ টাকা আত্বসাৎ করেছেন যা তথ্য প্রমাণসহ দুদকে বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের এ দুর্নীতি রোধ কারার জন্য তথ্য প্রমানসহ অনিয়ম ও দূর্নীতির ২৩টি অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য খালেদ আহম্মেদ স্বপ্রণোদিত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ঢাকা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর দরখাস্ত করেন। এর প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের পক্ষ হতে মাধ্যমিক ইউং ,মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক-সেসিপ মোঃ সবুজ আলম গত ৭ ফেব্রুয়ারী তদন্তে এসে ২৮ পৃষ্টার তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে ৯৭ লাখ ৫৭ হাজার ৩ শত ৮০ টাকা আত্বসাৎ, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগসহ বেশীরভাগ অভিযোগেরই সত্যতা উল্লেখ করা হয়। গোলাম মোর্শেদ অরুণ বর্তমান ক্ষমাতাসীন দলের লোক হওয়ায় কেউ তার তার অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। খালেদ আহমেদ আরও জানান, সভাপতির অনিয়ম ও দূর্নিতীর প্রতিবাদ করায় তাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং প্রাণ নাশসহ একাধীকবার বিভিন্ন প্রকার হুমকিও দেয়া হয়েছে। এজন্য তিনি একাধীক জিডিও করেছেন। এছাড়া আমাদের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লাকে গোলাম মোর্শেদ অরুণের দূর্নিতীর কথা একাধীকবার জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধীক শিক্ষক জানান, স্কুলের আয় থাকা সত্বেও আমরা গত ২ মাস ধরে বেতন পাই না, এভাবে দূর্নীতি চলতে থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে বাচানো যাবে না। এদিকে আগামি নভেম্বর মাসে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্টানটিতে নতুন কমিটি হওয়ার কথা রয়েছে। গোলাম মোর্শেদ তার সভাপতির পদ বহাল রাখতে বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে মান্নান হাইস্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি গোলাম মোর্শেদ অরুন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন , একটি মহল বিশেষ উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

