আজ সোমবার, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত হকারদের দখলে !

নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত

নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, না’গঞ্জ :

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে শুরু করে নিতাইগঞ্জ পযর্ন্ত চলছে হকারদের রমরমা ব্যাবসা। রাস্তা থেকে শুরু করে পুরো ফুটপাত যেন তাদেরই দখলে। পুরো সিটিই যেন তাদের পৈতৃক সম্পত্তি, এমনটাই মনে করছেন ভুক্তভুগী নগরবাসীরা। হকার উচ্ছেদ নিয়ে ২০১৭ এর ২৫ডিসেম্বর চাকরী চলে যায় সদস থানা ওসির। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র আইভী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের সাথে তুমুল বিবাদের সৃষ্টি হয়। এরপর হকারদের বসা ৬মাস বন্ধ থাকলেও সম্ভব হয়নি হকার উচ্ছেদ, সোজা কথায় নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত যেন পুরো হকারদের দখলে।

বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সরজমিনে শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, শহরের ফুটপাতগুলো পুরোপুরি হকারদের দখলে। দিনের বেলায় তো ব্যবসা করছেই তার উপর আবার রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুটি থেকে অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সন্ধ্যায় দোকান পরিচালনা করছে হকাররা। রাস্তার দুই পাশে ময়লা আর্বজনা ফেলে নোংরা করছে রাস্তার পরিবেশ।

নারায়ণগঞ্জ শহরের এতো চেষ্টার পর এখনো সম্ভব হয়নি নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার উচ্ছেদ অভিযান। শহরের চাষাঢ়া থেকে বি.বি রোডের দুই পাশে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত কয়েক শতাধিক হকার, ফুটপাতে অবৈধভাবে ব্যবসা করছে। যদিও, গত কিছু দিন যাবৎ হকারদের উচ্ছেদে একের পর এক অভিযান চালিয়েছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশন। একদিন উচ্ছেদ অভিযান চালালে আবার পরের দিন ঠিকই যার যার জায়গা সে সে দখল করে নিচ্ছে। তাছাড়া রাস্তার এক পাশে উচ্ছেদ করলে আবার আরেক পাশে ঠিকই জায়গা করে নিচ্ছে হকাররা।

গত কিছু দিন যাবৎ পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। সে সময় হকারদের আসবাবপত্র এবং নানান জিনিসপত্র জব্দ করেন তারা। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কয়েকমিনিট পরেই আবারো ফুটপাত দখল করে নেয় হকাররা। এ ব্যাপারে জনমনে তৈরী হয়েছে নানা রকম প্রশ্ন। কেউ কেউ আবার কানামাছি খেলার সঙ্গে সামিল করছেন এসব ঘটনাকে।

নগরবাসিরা জানান, হকারদের জন্য ফুটপাত দিয়ে ঠিকমতো চলচল করা যায়না। রাস্তার দুই পাশেই বসে তারা। এমন ভাবেই বসেন, মানে হাটার জন্য কোনো জায়গায় রাখেন না তারা। এটা রীতিমতো খুব খারাপ একটা বিষয়। আসলে প্রশাসনের উচিৎ এ বিষয়টা একটু কঠিন ভাবে দেখা।

বি.বি রোডস্থ হকাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আসলে সকলের চোখে আমরা দোষী। কিন্তু সবার এইটুকু তো বোঝা উচিৎ যে আমরা তো আর ফাও ফাও দোকান দিয়া বসিনা, টাকা দিয়াই বসি। এখন চুপ থাকলে আমরা ভালা, আবার না বইলাও পারতাছি না। ওনারা যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সেটা আসলে টাকা বাড়ানোর একটা ফন্দি। আমরা প্রতিদিন যেই টাকা দিই, সে টাকায় ওনাদের হয়না। সে কারনেই শুধু শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

চাষাঢ়া এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে জিহাদ জানান, এ নিয়ে আর নতুন করে কি বলবো। পুলিশ আর হকাররা আমাদের নাটক দেখাচ্ছেন, আর আমরা দেখছি। এই সবকিছু উচ্ছেদ করে দিচ্ছে, আবার একটু পর যেমন তেমনই। আসলে সমস্যটা যে কোথায় সেটাই বুঝতে পারছি না। যে যার যার মতো নাটক করছে, আর ভুগছি আমরা সাধারন মানুষরা। সিটি কর্পোরেশনের উচিৎ এ ব্যাপারে একটি কঠিন দৃষ্টি দেওয়া।

এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বহী কর্মকর্তা (সিইও) এহেতেশামুল হক দৈনিক সংবাদচর্চাকে জানান, ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ করতে হলে সকলের সহযোগিতা লাগবে। আমরা ইতিমধ্যে হকার উচ্ছেদ করতে গিয়ে রক্ত ঝরিয়েছি। তবে আশা করি প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব আমাদের এ সমস্যার সমধান করবে। আমরা চাই ফুটপাত জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে।