দেশে অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার দুপুর ১২টায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ থেকে এই মামলা দায়ের করা হয়। সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে ১২ কোটি ২৭ লাখ জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত টাকা ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয় মামলায়। মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আরা প্রধান।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাংককগামী একটি ফ্লাইট থেকে সেলিম প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সেলিম প্রধানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার গুলশানের কার্যালয় ও বনানীর বাসায় অভিযান চালান র্যাব সদস্যরা। এ অভিযানে ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, ২৯ লাখ টাকা, ২৩টি দেশের মোট ৭৭ লাখ সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা, ১২টি পাসপোর্ট, দুটি হরিণের চামড়া, তিনটি ব্যাংকের ৩২টি চেক ও অনলাইন গেমিং পরিচালনার একটি বড় সার্ভার জব্দ করা হয়।
সেলিম প্রধান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি তারেক রহমানকে টাকা পাঠান। তার বিভিন্ন পার্টিতে তরুণী সরবরাহের কাজ করতেন সেলিম। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন স্পা ও বিউটি পার্লার যেখানে ভিআইপিদের আসা যাওয়া রয়েছে, সেগুলোতে মেয়ে সরবরাহের কাজ করতেন সেলিম। সেই মেয়েরা ভিআইপিদের বিনোদন দেওয়ার কাজ করতেন।( সুত্র :ইত্তেফাক)
বাসায় হরিণের চামড়া রাখার অপরাধে সেলিম প্রধানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২ অক্টোবর গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মানি লন্ডারিং আইনে দুটি মামলা করে র্যাব। গত ৩ অক্টোবর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় এ তিনজনের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এছাড়া সেলিম প্রধানের গ্রামের বাড়ি রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের মর্তুজাবাদ এলাকায়। তার বাবার নাম নান্নু মিয়া।তার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি গাউছিয়া মার্কেটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল করে রেখেছিলেন। সেটা সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করেছে।

