সংবাদচর্চা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে এসপি হিসেবে হারুন অর রশিদ যোগদানের পর প্রভাবশালীদের দখলে থাকা নগরীর বেশকিছু অবৈধ স্ট্যান্ড ও ফুটপাত উঠিয়ে দেয়াসহ অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরি করে রমরমা ব্যবসাও বন্ধ করা হয়। তবে তার প্রস্থানের মাত্র দুইদিনের মাথায় পুনরায় বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত দখলে নিতে শুরু করেছে হকাররা। রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে হারুন অর রশীদকে নারায়ণগঞ্জ থেকে সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) শাখায় বদলী করা হয়। অন্যদিকে তার বদলির একদিন পর অর্থ্যাৎ সোমবার থেকেই ফুটপাত ধীরে ধীরে দখলদারদের কবলে চলে গেছে। এমনটাই জানা গেছে নগরবাসীর কাছ থেকে।
সম্প্রতি অবৈধভাবে ফুটপাতে বসার অপরাধে হকার নেতা রহিম মুন্সিসহ বেশ ক’জনকে আটক করা হয়েছিলো। পরে ফুটপাত দখল আর করবে না মর্মে মুচলেকা দেওয়াতে তাদেরকে সেদিন ছেড়েও দেয়া হয়েছিলো। তবে সেই মুচলেখার তোয়াক্কা না করে পুনরায় ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসেছেন রহিম মুন্সিসহ অন্যান্যরা।
নগরবাসী জানায়, এসপি যেমন আলোচিত ছিলো তেমনি বর্তমানে তিনি বেশ সমালোচিতও বটে। তবে বিগত দিনগুলোতে তার কাজগুলো ছিলো চোখে পরার মতো। যা অন্যান্য এসপিদের চেয়ে ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিনের এই ফুটপাত সমস্যার সমাধান কোন এসপি দিতে না পারলেও হারুন অর রশিদ সেই কাজটি ঠিকই করতে পেরেছিলেন। তবে এসপির বদলী হতে হতে না হতেই ফুটপাতের রূপ আবারও আগের মতো হয়ে গেছে। সামনে কি পরিস্থিতি হবে তা বলাবাহুল্য! শুধু ফুটপাত না শহরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো অপসারণ করেছিলেন হারুন অর রশিদ। সেগুলোও পুনরায় বসতে শুরু করেছে। এক কথায়, এসপি হারুনের বদলীতে বদলে যাচ্ছে পুরো শহর। এর পাশাপাশি শহরতলীর রঙ বদল হতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা য়ায়, চাষাড়া হকার্স মার্কেট ও মাধবী প¬াজার সামনের মূল সড়কের অর্ধেকটা দখলে নিয়ে নিয়েছে চাষাড়া-চিটাগাং রুট এবং চাষাড়া-মোক্তারপুর রুটে চলাচলরত লেগুনা। জানা যায়, এই সড়কটি তারা অবৈধ ভাবে দখল নিয়ে স্ট্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। যদিও ইতোপূর্বে তারা এখানেই স্ট্যান্ড করেছিলন। কিন্তু এসপি হারুনের কঠোরতায় সেই স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে এসব গাড়িগুলো মিশন পাড়া মোড়ে রাখা হতো। কিন্তু তার বদলীর আদেশ হওয়ার মঙ্গলবার থেকে পূর্বের রূপে চলে আসে নবাব সলিমুল¬াহ সড়ক।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে যাদেরকে থানার আশপাশে দেখা যায়নি তারা এসপি বদলির পর থানায় যাওয়া শুরু করেছে। থানায় গিয়ে ওসির সাথে দীর্ঘক্ষণ সময় নিয়ে কথা বলছে। সোমবার ফতুল¬া থানায় একটি গ্রুপকে দেখা যায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আসলাম হোসেনের রুমে। হঠাৎ করে তারা কী কারণে থানায় গেলেন সে ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আসলাম হোসেন জানান, পুরনো মামলার বিষয়ে তারা সকলেই তার সাথে কথা বলতে এসেছে। ওসি এমন কথা বললেও অনেকেই মনে করছেন, যারা একসময় ফতুল্লায় দাবড়ে বেড়াতো তারা এসপির কারণে হঠাৎ হারিয়ে গিয়েছিলো। এখন এসপি নেই তাই পুরনো ক্ষমতা জাগ্রত করতে থানায় তাদের পদচারণা। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ গোপন বৈঠক করতে শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।
সচেতন মহলের মতে, সম্প্রতি যে ঘটনাতেই এসপি হারুনকে বদলি করা হোক না কেনো তিনি যে ক’দিন নারায়ণগঞ্জে ছিলেন সে ক’দিন কাজ করেছেন। অবৈধ ফুটপাত, অবৈধ স্ট্যান্ড ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লাগাতার অ্যাকশনে ছিলেন এই কর্তা। তার অভাব নতুন এসপির মাধ্যমে পুরণ হবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

