৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, রাত ৮:২৭

হেরে যাওয়ার ভয়

বিশেষ প্রতিবেদক:

গুঞ্জন উঠেছে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী না দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দলটি সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেয়নি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সিনিয়র সভাপতি । মেয়র হতে তাকে বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে। ২০১১ সালে তিনি নাসিকের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এড. তৈমূর আলম খন্দকার ভোট গ্রহণের কয়েক ঘন্টা আগে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ান। তখন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম ওসমানের সাথে আইভীর ভোটের লড়াই হয়। ভোটে শামীম ওসমান হেরে যায়। তারা হেরে যাওয়ার পেছনে কিছু কারণ ছিলো। তার মধ্যে অন্যতম বিএনপির লং মার্চ ঠেকানো । সুত্রের খবর বিএনপির হাই কমান্ডের নির্দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা ডাঃ সেলিনা হাই আইভীকে ভোট দিয়ে লং মার্চ ঠেকানোর প্রতিশোধ নেয়। এরপর ২০১৬ সালে নাসিকের দ্বিতীয় নির্বাচনে তৃণমূল আওয়ামী লীগ আইভীর নাম বাদ দিয়ে কেন্দ্রে তিনজনের নাম পাঠায়। পরে আইভী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দেয় এবং দল তাকে মনোনয়ন দেয়। নাসিকের দ্বিতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলো মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বিশাল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান । এবার তিনি নির্বাচন করবেন কিনা সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। বিএনপি , জাতীয় পার্টি ছাড় দিলে আইভীর মাঠ ফাঁকা। ভেজাল করতে চাচ্ছে শামীমপন্থীরা। তারা আইভীকে ঠেকানোর জন্য মাঠে নেমেছে। শামীম ওসমানের বড় ভাই জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান তার অবস্থান পরিস্কার করেনি। সিটিতে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না। বাম এবং ইসলামী দলগুলো থেকে মেয়র প্রার্থী হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এ নির্বাচনে সব দল অংশ নিলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ হবে। তাদের কর্মীরাও সক্রিয় থাকবে। সিটি নির্বাচনের প্রভাব সংসদ নির্বাচনে পড়তে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ শহরের একাধিক ব্যক্তি এই প্রতিবেদককে জানান, বর্তমান মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভীর জনপ্রিয়তার কাছে হেরে যাওয়ার ভয়ে বিএনপি, জাতীয়পার্টিসহ অন্যদল প্রার্থী দিতে সাহস পাচ্ছে না। বিরোধী দলের অনেক নেতা প্রার্থী হওয়ার ভয়ে নীরব রয়েছে।

উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। এ নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা গণ্যমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করেনি। জেলা ও মহানগর বিএনপির মধ্যে কোন্দল দৃশ্যমান হচ্ছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ