আজ বুধবার, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

হিন্দু মুসলিম ভাই বোনের গল্প..

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০২০ সালের এপ্রিলে মে মাসে যখন করোনার ডামাডোল। তখন আমলাপাড়া নিবাসী কৌলাশ বনিক নামে একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক করোনা সিনটম নিয়ে মৃত্যু বরণ করেন। মৃতের তিনটি মাত্র কন্যা সন্তান।এক পুত্র বাবার আগেই চলে গেসে পরপারে।আমরা টিম খোরশেদ খবর পেয়ে মৃতের মরদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যাই শশ্মানে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সকল কার্যক্রম শেষ করে মুখাগ্নীর সময় উপস্থিত। মুখাগ্নী করার কেউ নেই।কারন মৃতের পুত্র সন্তান নেই।করোনার ভয়ে মৃতের কোন পুরুষ স্বজনও আসেনি শশ্মানে। শুধু তার দুই মেয়ে উপস্থিত। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পুত্র বা ভাতিস্পুত্র প্রয়োজন।

এই অবস্থায় মৃতের বড় মেয়ে নিয়তি বনিক আমাকে বলেন,দাদা তুমি তো আমার বাবাকে বাড়ী থেকে নিয়ে এলে তুমিই আমার ভাই,তুমি মুখাগ্নী করো।এরপর নিয়তি দিদি আমার এক হাত ধরেন,আমি আরেক হাতে কাকা বাবুর মুখাগ্নী করি।

এভাবেই আমাদের পরিচয়। ঘটনার পর থেকে আজ প্রায় দুই বছর হতে চলছে। নিয়তি দিদি আমার নিয়মিত খোজ খবর রাখেন।পূজায় মিষ্টি,নাড়ু নিয়ে আসেন।আমি ভাই হিসাবে যতটুকু সামর্থ্যে কুলায় বোনের খোজ খবর রাখি।অটুট আমাদের ভাই বোনের সম্পর্ক।

গতকাল ২৭ জানুয়ারি ছিল নিয়তি দিদির একমাত্র ছেলের বিয়ে।খাওয়া দাওয়া শেষে ভাগিনা ও ভাগিনা বৌ এর সাথে ছবি তুলে তারপরে ছাড়লেন নিয়তি দিদি।
মৃত্যু শুধু কারো চলে যাওয়া নয়,অনেক মৃত্যু নতুন সম্পর্কও সৃষ্টি করে।ভালো থাকুন বোন আমার নিয়তি বনিক।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ