২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ৩:০৩

সিটি মিলে বিস্ফোরণে দগ্ধ শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকায় সিটি গ্রুপের সিটি অটো রাইস মিলের ব্রয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ৪ শ্রমিকের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। নিহতদের নাম মো. হযরত আলী (৪৫), বেলায়েত হোসেন (৫৫) । তাদের বাড়ি গন্ধর্বপুরে। সুত্রের খবর দগ্ধ অপর শ্রমিক সিরাজুল ইসলামের অবস্থা এখনও সংটাপন্ন। বেলায়ত হোসেন ও হযরত আলীর লাশ গতকাল রবিবার রাতে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শনিবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। অপর আহত ব্যক্তি হলেন কারখানার নিরাপত্তারক্ষী রানা (৪৫)।

হযরত আলীর স্ত্রী বিলকিছ জানান, ছেলের বাবার আশা আছিল আমাদের ছেলের জন্য একটুজমি কিনে পাকা ঘর বানাবেন। ৪০০ টাকা হাজিরায় ৩ বছর ধরে সিটি মিলে কাম করতাছে। বাজারে সব কিছুর দাম বেশি আমি অসুস্থ, ঘর ভাড়া দিয়ে কিছুই থাকে না। আমাগো তো নতুন বাড়ি হইল না। আমাগো কেডা বাজার কইরা দিব? আমার ঔষধ কে কিন্না দিব? ঘর ভাড়ার টাকার জন্য কার কাছে যামু?

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর দুপুরে সিটি ইকুনোমিক জোন সিটি গ্রুপ মিলের হাসকিং প্লান্টের বয়লারে বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে।
সুত্রের খবর নিহত হযরত আলী পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার এক ছেলে দুই কন্যা ও স্ত্রী রয়েছে। তিনি উপজেলার তারাব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডএলাকার খোরশেদা বেগমের বাড়ির ভাড়াটিয়া। ছেলে সুজন (২০) ও দুই কন্যা লিজা, পিংকি। নিহতের স্ত্রী বিলকিছ বেগম। বিলকিছ বেগম নানা রোগে ভুগছেন। ছেলে বেকার। কিভাবে সংসার চালাবেন তা ভেবেই এখন তিনি কান্নায় বুক ভাসাচ্ছেন।

নিহত হযরত আলীর প্রতিবেশীরা জানান, ৩ বছর ধরে সিটি মেইলে কাম করেন হযরত অলী। সে আমাদের এলাকার ভাড়াটিয়া। সে বয়লারে কাজ করত বলে জানতাম। তার গায়ের চামরা ও হাত পা’য়ের চামরা নখ আলাদা হয়ে গেছে। সে কোনো কিছু বলতে পারেনি। মিলের ভেতরে বিস্ফোরণ হলে টিনের সঙ্গে উড়ে ১০০ গজ দূরে রাস্তার মধ্যে গিয়ে আছড়ে পড়ে ওই শ্রমিক।

এ ঘটনায় জানতে চেয়ে মিলের ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে নিরাপত্তা প্রহরীরা গেট আটকে রাখেন। হযরত আলী কয়টার সময় কাজে ছিল তার হাজিরা দেখার বিষয়ে জানতে চাইলে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ