১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, সন্ধ্যা ৭:১৫

সমিতির নামে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাত

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

শহরের এক নম্বর বাবুরাইল এলাকার বৌ-বাজারে সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল নামে একটি সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় দশ থেকে পনের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পাওনা টাকার দাবিতে গত দু’দিন ধরে বাজার ঘেরাওসহ সমিতির মালিককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রাহক ও বিনিয়োগকারি। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, সমিতির মালিক রমজান আলী টাকা বুঝিয়ে দেবার কথা বললেও নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। সমিতির বেশ কয়েকজন গ্রাহক ও অর্থ বিনিয়োগকারির সাথে কথা বলে জানা যায়, আর্থিক মুনাফা লাভের আশায় জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নগদ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এই সমিতিতে। মাসিক ভিত্তির সঞ্চয়, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় (ডিপিএস) ও দুই থেকে দশ বছর মেয়াদে (এফডিআর) মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ করেন তারা।

তবে কোন ধরণের লাইসেন্স বা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ আঠারো বছর যাবত এভাবেই অবৈধভাবে সমিতি পরিচালনা করে আসছেন মালিক রমজান আলী। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়ি, জমি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হওয়াসহ অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার কথা স্থানীয়রা বলছেন।

ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, চলতি বছরের মার্চ মাসে মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন শুরু হলে লকডাউনের সময় থেকেই সমিতির সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। খুলে ফেলা হয় সাইনবোর্ডটিও। করোনা পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে তাদের বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কর্মচারির উপর দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে সবার সাথে যোগযোগ বন্ধ করে দেন মালিক রমজান আলী। গত কয়েক মাস ধরেই নানাভাবে প্রতারণাসহ দশ থেকে পনের কোটি টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন গ্রাহকরা।

এদিকে সঞ্চয় ও বিনিয়োগকৃত টাকার দাবিতে মঙ্গলবার বিকেল থেকে শত শত গ্রাহক সমিতির কার্য্যালয় ঘেরাও করেন। মালিক রমজান আলীকে অবরুদ্ধ করে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ করেন। কেউ দুই লাখ, সর্বন্মি চার লাখ থেকে শুরু করে দশ লাখ টাকা ফেরতের দাবিতে একেকজন চড়াও হন রমজান আলীর উপর। এক পর্যায়ে তিনি কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়েন।

তবে সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিলের স্বত্ত্বাধিকারি রমজান আলী দাবি করেন, প্রতি বছর গ্রাহকদের টাকা বুঝিয়ে দিয়ে একই সমিতির নামে নতুন করে পুনরায় অর্থ গ্রহণ করা হয়। এ কারণে লাইসেন্স করেন নি এবং কোন অনুমোদন নেন নি।

অনুমোদনহীন এই সমিতি অবৈধ বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, এ বছর করোনার কারণে টাকা আটকে গেছে। তাই পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে পারেন নি। তবে গ্রহকদের টাকা ধীরে ধীরে ফেরত দেয়ার জন্য তিনি তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান। এদিকে সমিতির ব্যবস্থাপক হাবিবুল্লাহ শিপলু বলেন, আমি ১০ হাজার টাকা বেতনে ১০ বছর যাবত চাকুরি করছি।

তিনি আরো জানান, গ্রাহকদের অর্থের দায়ভার নেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক রমজান আলী তাকে নানাভাবে প্রলোভন দেখানোসহ হুমকি দিচ্ছেন।

এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আইনের আশ্রয় চেয়ে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন বলে জানান সমিতির ব্যবস্থাপক হাবিবুল্লাহ শিপলু।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ