আজ শনিবার, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

‘সমস্যা দূর করার জন্য বসে আছি’

টি.আই.আরিফ

নানা আয়োজনে গতকাল ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবার জাতীয় পাট দিবসে ১১ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও পাটসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ৭টি শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী

বীরপ্রতীক,এমপি’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, বস্ত্র ও পাট সচিব মোঃ আব্দুর রউফ।
পাটচাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক বলেন, আপনাদের যে সমস্যা আছে আমাদেরকে বলবেন। আমরা বসে আছি আপনাদের সমস্যা দূর করার জন্য। আপনাদের সমস্যা দূর করা ছাড়া আমাদের আর কাজ নাই। আপনারা আমাদের কাছে আসবেন আমরা ১০০ বার চেষ্টা করবো আপনাদের সমস্যা সমাধানের জন্য।

তিনি বলেন, সেদিন আর বেশি দুরে নয় বহুমুখী পাটপণ্যই হবে বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার পাটখাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশে, বিদেশে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে পাটের ভূমিকা একটি স্বীকৃত ইতিহাস।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, শিল্পমন্ত্রী হুমায়ুন আমার বন্ধু। আমার সৌভাগ্য আমরা দুই বন্ধু এক সঙ্গে মন্ত্রী হয়েছি। আজকে অনেকের বক্তব্য শুনলাম। বক্তব্য শুনে মনে হলো আমি মন্ত্রী না হয়ে যদি পাটচাষী হতাম তাও আমার লাভ হতো। পাট খাতে আমাদের সরকার অনেক ভর্তুকি দিয়ে আসছে। পরিবেশবান্ধব পাট স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে।
পাটচাষের আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে পাটচাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদানের নিমিত্ত পাট অধিদপ্তরের অধীন ‘উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রাসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পটি দেশের ৪৬টি জেলার ২৩০টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। মানসম্মত পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে পাঁচবছরের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে । আশা করি, বাংলাদেশ উন্নত পাটবীজ উৎপাদনে স্বনির্ভর হবে। প্রয়োজনীয় পাটবীজ সংগ্রহে আমদানি নির্ভরতা আর থাকবে না। পাটের ব্যাগ ব্যবহারে অভিযান আরও বেশি জোরদার করতে আমরা পাট অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে ধারণ করে বহুদূর এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের পাটপণ্য যাতে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয় সেলক্ষ্যে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিয়মিত গবেষণা ও উদ্ভাবন। পাটের উন্নত চাষাবাদ ও বহুমুখী ব্যবহারের জন্য আমাদের গবেষকরা কাজ করছেন। ভবিষ্যতে আরো ব্যাপক পরিসরে উন্নত গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। মেধা ও মননের সমন্বয়ে আমরা নিশ্চয়ই নিত্য নতুন বিশ্বমানের বহুমাত্রিক সামগ্রী তৈরি করতে সক্ষম হব।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাটকে কৃষিপণ্য হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। আমি দাবি করতে চাই পাটকে বহুমুখী কৃষিপণ্য হিসাবে ঘোষণা করা হোক।

এবার জাতীয় পাট দিবসের শ্লোগান ‘পাট শিল্পের অবদান, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ । এছাড়া গতকাল দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে করিম চেম্বারে বহুমুখী পাটপণ্য বিক্রয় ও প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ০৮টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে। এবার মেলায় ২৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ