আজ মঙ্গলবার, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সড়কের পাশে স্থাপনা নির্মাণকারীরা নিজেরাই সরিয়ে নিচ্ছে

এম.এ মোমেন:

ঢাকা-রূপগঞ্জ-কালিগঞ্জ সড়কের রূপগঞ্জ অংশের শিমুলিয়া পর্যন্ত সাড়ে দশ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এই সড়ক ১৮ ফুট প্রস্থে পাকাকরণ ও ৬ ফুট প্রস্থে মাটি ভরাট কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। বৃহত্তর ঢাকা উন্নয়ন প্রকল্প-৪ (জিডিপি-৪) এর অধীনে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি বছর আগষ্ট মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জুন মাসের মধ্যে এ সড়কের নির্মাণ কাজ সমাপ্তি হবে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের অনুরোধে ক্ষতিপূরণ, ভর্তুকি কিংবা ক্ষতিপূরণ বিলের টাকা না পেয়েও রাস্তার দুই দিকের দোকানপাট, ঘরবাড়ির মালিকরা নিজেদের ইচ্ছায় তা সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভূমি হুকুমদখল ছাড়াই সড়কের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। তাতে জমির মালিকরাও খুশি। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, এছাড়া এলজিইডির অধীনে রূপগঞ্জের শিমুলিয়া-ফজুরবাড়ি-বাগবের-ইছাপুরা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ আগামী মে মাসে শুরু হবে। এ সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫ কোটি টাকা। সড়কটি নির্মাণ হলে রূপগঞ্জের আর বড় কোন সড়ক পাকাকরণের বাইরে থাকবে না বলে তিনি দাবি করেন।

হাবিবনগর এলাকাার আলহাজ্ব লায়ন মোঃ হাবিবুর রহমান হারেজ বলেন, রূপগঞ্জ-ডেমরা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। দেশ স্বাধীনের পর এ সড়কটি কখনো চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেনি। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। রাস্তার স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত। সেই গর্তে গাড়ি উল্টে যাত্রীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গত ৫/৬ বছর ধরে রাস্তাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। রূপগঞ্জের শিমুলিয়া, ব্রাহ্মণখালী, গোবিন্দপুর, মধুখালী, সুলপিনা, হাটাবো, কাজীরবাগ, বেলদী, দেবই, জাঙ্গীর, পিতলগঞ্জ, হারিন্দা, কুদুর মার্কেট, ভিংরাবো, সাহাপুর, মুশরি ও রূপগঞ্জসহ আশপাশের শতাধিক গ্রামের মানুষ এ সড়কে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে।

রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ গ্রামের ওবায়দুল মজিদ জুয়েল বলেন, দীর্ঘদিন প্রতিক্ষার পর সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে। সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হবে বলে আমার বিশ্বাস।

রূপগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি জোড়াতালি দিয়ে চলছিল। আমিও বেশ ক’বার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাস্তাটি সংস্কার করেছি। এবার সড়ক নির্মাণে এলাকাবাসী সার্বিক সহযোগিতা করছে। সড়কের সীমানায় নির্মাণ করা ঘরবাড়ি, দোকানপাট কোনরকম ক্ষতিপূরণ ছাড়াই নিজেদের উদ্যোগে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সড়কটি নির্মাণ হলে গাজীপুর, নরসিংদী ও ঢাকার সঙ্গে রূপগঞ্জবাসীর স্থল যোগাযোগ আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।

কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাহেদ আলী বলেন, বহু আবেদন নিবেদনের পর সড়কের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। আওয়ামীলীগ উন্নয়নের সরকার। যোগাযোগ ব্যবস্থায় তাকালেই তা প্রমাণ হয়।

সড়ক নির্মাণকারী হাবিব, রাকিব ও আসিফ যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণ কাজ করছেন। এ প্রতিষ্ঠানের অংশীদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়কের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত জুন মাসের আগেই তা সম্পন্ন করা হবে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেন, এলাকাবাসীর সার্বিক উন্নয়নে রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় রূপগঞ্জ আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য গত ২ বছরে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা ও দৈনিক সংবাদচর্চা পত্রিকায় এ সড়ক নিয়ে তিনটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ