আজ বুধবার, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শামীম শিবিরে চাঞ্চল্য

স্টাফ রিপোর্টার:

আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সাথে সাক্ষাৎ করেছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অপর একটি অংশের নেতাকর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। হঠাৎ কেন এই সাক্ষাৎ, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষনও।

জানা গেছে, গতকাল সংসদ ভবনে মির্জা আজমের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আদিনাথ বশু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত।

সাংগঠনিক নানা বিষয়ে মির্জা আজমের সাথে তারা দীর্ঘক্ষন একান্তে আলাপচারিতা করেন। পরবর্তীতে মির্জা আজমের সাথে একটি গ্রুপ ছবিও তোলেন তারা। এসময় প্রত্যেককে বেশ হাস্যোজ্জল দেখা গেছে। এই ছবিটি গতকাল সন্ধ্যায় ফেসবুকে আপলোড হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও অপর একটি অংশের নেতাদের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি উত্তর ও দক্ষিণ মেরু নামে দুই ভাগে বিভক্ত। ওসমান পরিবারকে কেন্দ্র করে উত্তর মেরু আর আলী আহমদ চুনকা তথা বর্তমান মেয়র আইভীকে কেন্দ্র করে দক্ষিন মেরুর রাজনীতির ধারা নারায়ণগঞ্জে প্রচলিত। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি, মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন এবং আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়বস্তুর দিকে চোখ রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই মেরুর নেতাদের।

এতে দেখা গেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মেরুকরণের জটিলতা রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সেই গত বছরের ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পূর্বের কমিটির সভাপতি আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলকেই স্বপদে বহাল রেখে দুই সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরবর্তীতে দীর্ঘ ৬ মাসেরও বেশী সময় অতিবাহিত হলেও জেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনেও মেরুগত টানাপোড়েন রয়েছে। মেরুগত কারণেই কমিটির খসড়া তালিকা তৈরীতে সভাপতি আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের মাঝে দ্বিমত তৈরী হয়েছিল।

অন্যদিকে, মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও সেই পথও সুগম হয়নি। অভ্যান্তরীণ ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলন সম্পন্ন হলেও সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডে এখনো সম্মেলন হয়নি। এমপি শামীম ওসমান এই ১০টি ওয়ার্ডে সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব কাধে নিলেও তিনি সময় ক্ষেপন করছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা এই বিষয়ে কোন হস্তক্ষেপও করছেন না।

তথ্য মতে, মেরুকরণের ছায়া পড়েছে মহানগরেও। কমিটির সভাপতি মেয়র আইভীর অনুসারী এবং সাধারণ সম্পাদক এমপি শামীম ওসমানের বন্ধু। তাদের মধ্যকার সম্পর্কে বেশ কয়েক বছর ধরেই ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন নিয়েও তাদের মাঝে বিরোধ আরো প্রবল আকার ধারণ করেছে। খোকন সাহা প্রকাশ্যেই আনোয়ার হোসেন সহ অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিরোধীতা করে বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন।

তথ্য মতে, আনোয়ার হোসেন ছাড়াও আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু এবং মেয়র আইভী বলয় থেকে আরো কয়েকজন নেতা চাইছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে যেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী দেয়া হয়। দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে আইভী অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতারা একাট্টা হলেও শামীম ওসমান অনুসারীরা এতে পরোক্ষ ভাবে দ্বিমত পোষন করছেন। কেননা, এই আসনে বর্তমান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান হলেন এমপি শামীম ওসমানের বড় ভাই। ফলে শামীম ওসমানের অনুগামী নেতারা এখানে সেলিম ওসমানকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সমর্থনের সুর তুলছেন।

জানা গেছে, গতকাল মির্জা আজমের সাথে সাক্ষাতকালে কমিটি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন মেয়র আইভী, আনিসুর রহমান দিপু, আদিনাথ বশু, জাহাঙ্গীর আলম এবং জিএম আরাফাত।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, মির্জা আজম এমপি হলেন আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। আমরা তার সাথে সাংগঠনিক নানা বিষয়ে কথা বলেছি। এতে যেমন কমিটির প্রসঙ্গ ছিলো, তেমনই আগামী জাতীয় নির্বাচনের নানা বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি আমাদের প্রতি দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রেখেছেন।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ