আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শামীম-গিয়াসে দৃষ্টি সবার

স্টাফ রিপোর্টার :

দেশজুড়ে আলোচিত এক নাম শামীম ওসমান। তার গতিপ্রকৃতির দিকে অনেকেই নজর রাখেন। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জের প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শামীম ওসমান দলীয় প্রতীক নিয়েও মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনেও গোটা দেশের মানুষের দৃষ্টি ছিলো নারায়ণগঞ্জের দিকে। কেননা, আলোচিত ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে যখন কেউ টু শব্দও করতেন না, তখনই তাকে নিয়ে ঝাঁঝালো মন্তব্য করে মানুষের কাছে প্রতিবাদি ইমেজ কুড়িয়েছিলেন আইভী। এতে তিনি যেমন শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটে হারিয়ে ওই নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন, তেমনই সাধারণ মানুষও আইভীকে সাদরে গ্রহণ করেছেন।
প্রবীন রাজনীতিবীদরা বলছেন, মেয়র আইভীর মত শামীম ওসমানের চোখে চোখ রেখে কথা বলার মত সৎ সাহস দেখাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেরই সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। সম্প্রতি শামীম ওসমান ও গিয়াস উদ্দিনের মাঝে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে। শামীম ওসমান গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে যেমন বিস্ফোরক মন্তব্য করে যাচ্ছেন, তেমনই শামীম ওসমানকেও ছেড়ে কথা বলছেন না গিয়াস উদ্দিন। এতে আইভীর মত গিয়াস উদ্দিনও সাধারণ মানুষের কাছে এক প্রতিবাদি ও সাহসী নাম হয়ে উঠেছে।
ইতিমধ্যেই শামীম ওসমান ও গিয়াস উদ্দিনের মধ্যকার মধ্যকার এই বাগযুদ্ধ নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাপিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসন তো বটেই, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের নজরও এখন শামীম ওসমান ও গিয়াস উদ্দিনের দিকে।
অনেকেই মনে করছেন, আগামীতে যদি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এমপি শামীম ওসমান ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন আবারও ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হন, তাহলে গোটা দেশের মানুষের দৃষ্টি থাকতে পারে এই আসনটিতেই। ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনে যেমন আগ্রহ তৈরী হয়েছিল, এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে এমনটা দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতীব রাজনীতিবিদরা বলছেন, রাজনীতিতে ঝানু ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত গিয়াস উদ্দিন। বিএনপির সাবেক এই এমপি নারায়ণগঞ্জে নিজস্ব সত্ত্বা গড়ে তুলেছেন বহু আগেই। এই জেলায় বিএনপি নেতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের চোখে চোখ রেখে কথা বলার মত সামর্থ্য রয়েছে তারই। গিয়াস উদ্দিন এখন বিএনপির নেতৃত্ব কাঁধে তুলেছেন। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে থানা পর্যন্ত দলকে সংগঠিত করার গুরু দায়িত্বটাও পালন করেছেন। এবার জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে তাকেই বিএনপির শক্ত প্রার্থী ভাবছেন দলের তৃণমুল। এতেই যেন গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে চিন্তা বেড়েছে শামীম ওসমানের। কেননা, ঘুরে ফিরে সেই গিয়াস উদ্দিনই তার প্রতিপক্ষ হতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে, আলোচিত এমপি শামীম ওসমান যেমন দেশজুড়ে পরিচিত, তেমনই নারায়ণগঞ্জেও তার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী রয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি গড়ে তুলেছেন। শামীম ওসমানের ডাকে হাজারো লোকের সমাগম হয়। যদিও তার নেতাকর্মীদের মতে হাজার নয় বরং লাখো লোক জমায়েত হয়ে থাকে। আবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগেও শামীম ওসমানের প্রভাব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক নিয়েও অনেকে নানা আলোচনা করে থাকেন। শামীম ওসমানের অনুসারীরা মনে করেন, আগামী নির্বাচনে এই আসনে শামীম ওসমানই দলের মনোনয়ন পাবেন।
একই ভাবে বিএনপি নেতারাও মনে করেন, আগামীতে যদি দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে তাহলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে গিয়াস উদ্দিনই বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন। কেননা, এই আসনে শামীম ওসমানের সাথে চোখে চোখ রেখে টক্কর দেয়ার মত নারায়ণগঞ্জে গিয়াস উদ্দিনই রয়েছেন।
জানা গেছে, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে শামীম ওসমানকে পরাজিত করেছিলেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ের বাঁকে বাঁকে গিয়াস-শামীম দ্বন্দ্বের নানা ঘটনার সাক্ষী হয়েছে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ। কথিত আছে, পরাজয়ের সেই তিক্ততা নাকি এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় শামীম ওসমানকে। সেই তিক্ততার কারণেই গিয়াস বিরোধী নানা বক্তব্য দিতে দেখা যায় ক্ষমতাসীন দলের আলোচিত এই সংসদ সদস্যকে।
রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল বলছেন, শামীম ওসমান এমপি হয়ে গিয়াস উদ্দিনকে বেকায়দায় ফেলার নানা কসরত করে গেছেন। মূলত, শামীম ওসমান তার রাজনৈতিক জীবনে ভোটের মাঠে দুই বার পরাজিত হয়েছিলেন। যার একবার জাতীয় নির্বাচনে গিয়াস উদ্দিন এবং দ্বিতীয়বার ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনে আইভীর বিরুদ্ধে ঘটেছিল। যদিও দুইজন দুই দলের। তবে পরাজয়ের তিক্ততা তাড়িয়ে বেড়ায় বলেই কখনো আইভী আবার কখনো গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধাচারণ করে থাকেন শামীম ওসমান- এমনটা মনে করেন এই জেলার রাজনৈতিক নেতারা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ