আজ শুক্রবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

‘রাজনীতি থেকে হাসনাত পরিবারকে উৎখাত’

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

আসন্ন মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে চরম কোন্দল আর গ্রুপিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহ মো. সোহাগ রনি। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু। তিনি দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আরিফ মাসুদ বাবু সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সভাপতি ও জাতির জনকের ঘনিষ্ঠ সহচর সাজেদ আলী মোক্তারের ছেলে। তিনি সোনারগাঁয়ের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের নিকট আত্মীয়। তিনি দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া এ নিয়ে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দল থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। যারা তার দলীয় মনোনয়ন দাবি করেছিলেন তারাই এখন তার পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছে। চেয়ারম্যান পদে গতকাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাবু। একই দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সোহাগ রনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক উপকমিটির সদস্য দীপক কুমার বনিক দীপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু , সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক এএইচ মাসুদ দুলাল, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদসহ অনেকে। সুত্রের খবর আওয়ামী লীগের বৃহৎ একটি অংশ বাবুর পাশে রয়েছে। যারা ওসমান বিরোধী তারা বাবুকে সাপোর্ট করছে।
গতকাল রনির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক এড. সামসুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, সোনারগাঁয়ের একটি পরিবার নিজেদের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেন। আপনারা আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন ভাল কথা সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ। কিন্তু আওয়ামী লীগ পরিবার দাবি করে নৌকার মনোনয়ন না পেলেই নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে যাবেন এটা কেমন আওয়ামী লীগ।

অপর দিকে হাসনাত পরিবারের পক্ষে একটি গণমাধ্যমে কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম । তিনি দুঃখ প্রকাশ করে গানের সুরে বলেন- ”হাইব্রিডদের কাছে নেতারা বন্দি-কর্মীরা হতাস, টাকার কাছে রাজনীতি বন্দি- হইবে সর্বনাশ, নেত্রীগো আমার মন ভালো না।”
তিনি আরো বলেন, ইতিহাসের করুন পরিনতির দিকে যাচ্ছি আমরা। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতি থেকে হাসনাত পরিবারকে উৎখাত করা হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী হাসনাত পরিবারটিকে রাজনৈতিক ভাবে সর্বহারা করা হলো। দলের এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে সোনারগাঁ থেকে আওয়ামী লীগের পতনের পথকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাবে।
মাহফুজুর রহমান কালাম বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন পরিবার আর একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের গড়া এই হাসনাত পরিবার থেকে বহু সদস্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই পরিবার থেকে একজন লোকও আওমীলীগ এর বাহিরে গিয়ে কোনো দল বা রাজনীতি করেন নাই। অন্য দলে গিয়ে এমপি মন্ত্রী হওয়ার সুবিধা গ্রহণ করেন নাই। আর সেই পরিবারটিকে আওয়ামীলীগের আমলেই সব কিছু থেকে বঞ্চিত করতে উঠে পরে লেগেছে একটি মহল। যারা মুখে বড় বড় কথা বললেও নিজের পরিবারের সদস্যরাই আওয়ামীলীগের বাহিরে অন্য দলও করেন।
সুত্রের খবর রনিকে তলে তলে জাতীয়পার্টির কিছু নেতা সাপোর্ট করছে। গেল সংসদ নির্বাচনে শুরুতে এমপি খোকার বিপক্ষে ছিলেন বাবু। রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে , মোগরাপাড়া ইউপি নির্বাচনের প্রভাব আগামী সংসদ নির্বাচনে পড়তে পারে। বাবু সমর্থকরা জানান, রনি নানা অপকর্মে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ। ধর্ষণ মামলার আসামি হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সে সাক্ষ্য দেয়নি। তারপরও দল তাকে কিভাবে নৌকা দিলো ।

উল্লেখ্য আগামী ১৫ জুন মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। নৌকার বিপক্ষে একাধিক প্রার্থী। কে জিতবে তা দেখার অপেক্ষা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ