আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রশীদকে জয়ী করানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ

স্টাফ রিপোর্টার :

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও বন্দরে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এমনকি দুই এমপিকেও দেখা গেছে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে। এমনকি কেন্দ্রের উপর মহলের দ্বারেও ছুটছেন প্রার্থীকে নিয়ে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তিন জন। এর মধ্যে একজন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ। বাকি দুজনের মধ্যে একজন বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা আতাউর রহমান মুকুল এবং অপরজন মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির নেতা মাকসুদ। ওসমান ঘনিষ্ঠ হিসেবে তাদেরও বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।
তবে, এবারের উপজেলা নির্বাচনে এমএ রশিদকে সমর্থন জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তার ভাই আলোচিত এমপি শামীম ওসমানের সমর্থন ঠিক কোন দিকে- তা নিয়ে ধোয়াশা দেখা গেলেও বাহ্যিক ভাবে তাকে তার ভাইয়ের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষেই অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বন্দর উপজেলার প্রার্থী এমএ রশিদকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের কাছে গিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এসময় তাদের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলও উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
তবে নির্বাচনের প্রাক্কালে হঠাৎ এমএ রশীদকে নিয়ে কী কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বরণাপন্ন হলেন আলোচিত এমপি শামীম ওসমান এবং জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা- সেই বিষয়ে এখনই কিছু জানা যায়নি। গতকাল রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলের সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও উভয়েই ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে, নির্বাচনের আগে বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ নিয়ে কৌতুহল বাড়ছে জনমনে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি (প্রয়াত) নাসিম ওসমানের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বন্দরে অনুষ্ঠিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমপি শামীম ওসমান বলেছিলেন, ‘এইমাত্র যখন আমরা এখানে বসা, তখন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাদের জন্য নির্দেশ এসেছে, বন্দরের নির্বাচনে স্বশরীরে অবস্থান করার জন্য। অন্য সহযোগী সংগঠনের কাছেও ওই নির্দেশ আসবে।’
শামীম ওসমানের ওই মন্তব্য নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। দলীয় প্রতীক বিহীন উন্মুক্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ঠিক কী নির্দেশনা এসেছে- তা নিয়ে চলছে আলোচনা। অনেকেই বলছেন, যেখানে উপজেলা নির্বাচন এমপিদের হস্তক্ষেপ মুক্ত করার জন্য শুরু থেকেই নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা। সেখানে বন্দর উপজেলার নির্বাচনে স্বশরীরে অবস্থান করার যেই তথ্য নিজ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করলেন শামীম ওসমান- তা নিয়ে অনেকেই আছেন ধোয়াশার মধ্যে।
তবে শামীম ওসমান এমন বক্তব্য রাখার পরপরই এমএ রশিদকে সহ জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতাকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাওয়ায় বাকি দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মাঝে ভিন্ন আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যেই মাকসুদ এবং মুকুল তাদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় গিয়ে একটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করে বক্তব্য রেখেছেন। তবে, ভোটের আগে এমএ রশীদকে নিয়ে প্রভাবশালী দুই এমপি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের দৌড়ঝাপ দেখে অন্যান্য প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ