আজ শনিবার, ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রপ্তানি পণ্য চুরি, গোপন গোডাউনের সন্ধান

সংবাদচর্চা রিপোর্ট

রাস্তা থেকে গার্মেন্টসের রপ্তানি পণ্য চুরি করে দেশের সম্মান ক্ষুন্ন করছে কিছু অমানুষ। বিভিন্ন সময়ে এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতির শিকার হন গার্মেন্ট কারখানার মালিকরা। এমনই এক সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবি আই) নারায়ণগঞ্জ। গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত বছর ৫ মে ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর ফেইম এ্যাপারেলস লি. তাদের তৈরী পোষাক শিপমেন্টের জন্য বিবি খাদিজা ট্রান্সপোর্ট ও ইম্পেরিয়াল ট্রান্সপোর্ট এর চারটি কাভার্ড ভ্যান ভাড়া করে। ২ কোটি ৯০ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৩ টাকার মুল্যের কয়েকটি চালানে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩২৯ পিস তৈরী পোষাক চট্টগ্রাম পোর্টে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ট্রান্সপোর্টের নিয়োজিত চালক ও হেলপারদের মাধ্যমে রাত সাড়ে ১১টায় প্রেরণ করে। পরদিন ৬ মে চট্টগ্রাম পোর্টের সিএন্ডএফ কর্তৃপক্ষ ওই মালামাল রিসিভ করে। দেড় মাস পর ৯ জুলাই ফেইম এ্যাপারেলস লি. কর্তৃপক্ষকে জার্মান থেকে বায়ার জানান, পাঠানো তৈরী পোষাকের মধ্যে ৩০ হাজার ৫৪৩ পিস নেই। যার মূল্য অনুমান ৭৪ লাখ ৯২ হাজার ২৭০ টাকা। পরবর্তীতে ফেইম এ্যাপারেলস লি. এর পক্ষে মো. জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। যা ফতুল্লা থানার এসআই আশিক ইমরান ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে মামলাটি পিবিআই, নারায়ণগঞ্জ কে দায়িত্ব দেয়া হয়। পিবি আই নারায়ণগঞ্জ জেলায় কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক আ. বাতেন মিয়া মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আ. বাতেন মিয়া ও সহযোগী এস.আই শাকিল হোসেন এবং এস.আই মো. মাজহারুল ইসলাম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকার মিরপুর, সাভারের বিরুলিয়া চট্টগামের সীতাকুন্ড ও ফটিক ছড়ি এলাকায় ৩১ মার্চ হতে ১০ এ্রপ্রিল পর্যন্ত ১১ দিন একাধিক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত সংঘবব্ধ চোরাই চক্রের মূলহোতাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারকৃতরা হল, রায়হান, মো. বিল্লাল, ফারুক, মোতালেব, কাউসার, পারভেজ ও সোহেল।
পিবি আই পুলিশ সুপার বলেন, মামলার তদন্তকালে গার্মেন্টস মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এভাবে রপ্তানির পন্য চুরি হতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদী ঝুকিতে পরবে দেশের পোশাক শিল্প খাত। চোরাই চক্রের এসব কর্মকান্ডের ফলে বিদেশী বায়ারদের সাথে সর্ম্পকের অবনতি ঘটছে দেশের গার্মেন্টস মালিকদের। দেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির প্রতি বিদেশী বায়ারদের আস্থাহীনতা এবং অনিশ্চয়তায় দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পাশাপাশি শিপমেন্ট বাতিলসহ নানাবিধ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশের পোশাক শিল্প খাত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ মাল সরিয়ে ফেলে তারা। কিন্তু আমাদের আপত্তির বিষয় হলো, এটাতে চুরির মামলা হয়। কিন্তু এতে কি হয়, বছরের পর বছর মামলা চলতে থাকে। কিন্তু এতে দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু আমরা দীর্ঘদিন যাবত বায়ারদের সাথে ব্যবসা করছি, সেই ক্ষেত্রে তাদের সাথেও আমাদের একটা বিশ্বাসের জায়গা আছে। তিনি বলেন, আমরা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ ব্যাক্তিদের নিয়ে কথা বলেছি যে, যাতে এটা সাধারণ চুরির মামলায় না নিয়ে স্পেশাল এ্যাক্ট তৈরী করা হয় এবং বিশেষ ট্রাইবুনালে তাদের বিচার করা হয়। কিছুদিন আগে আমার এমন কিছু পণ্য চুরি হয়েছিলো, পরে চট্টগ্রামের এক যুবলীগ নেতা আমাকে ফোন করে বলেছে সে নাকি আমার মাল উদ্ধার করে দিবে। কিন্তু কোথায় থেকে দিলো এটাই বুঝতে পারলাম না। মোহাম্মদ হাতেম পিবিআই ও র‌্যাবের সিইওকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা অনেক সক্রিয় হয়ে কাজ করেছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ