আজ বুধবার, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মেলায় বঙ্গবন্ধু গ্যালারি পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী গাজী

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

কেউ বঙ্গবন্ধুর উক্তি নোট করছেন। কেউ বসে বই পড়ছেন। কেউবা অধীর আগ্রহে একধেনে বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহের ছবি দেখছেন। কেউবা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সঙ্গে ছবি তুলছেন। প্রতিদিনের এ দৃশ্য বাণিজ্য মেলার বঙ্গবন্ধু গ্যালারির। উদ্বোধনের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক সহ অনেকেই এ গ্যালারী পরিদর্শন করেছেন। নারায়ণগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা আমানউল্লাহ তাঁর নাতী-নাতনীদের সঙ্গে নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রবেশ করেছেন বঙ্গবন্ধু গ্যালারিতে। প্রবেশ করে নাতী-নাতনীদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের সংগ্রামের ছবি দেখিয়ে তাঁর আদর্শের কথা তুলে ধরছেন। বঙ্গবন্ধু যুবক বয়সে কেমন ছিলেন। ফুটবলার হিসেবে বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্ব। ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ তিনি সরাসরি শুনেছেন। সেই ভাষণের মর্মকথাও বলছেন। তুলে ধরছেন বঙ্গবন্ধুর কারা ভোগের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর ৪ হাজার ৬৮২দিন জেল খাটার বর্ণনা দেন ৭১এর এ সৈনিক। কথা বলতে বলতে তিনি একসময় স্মৃতিকাতর হয়ে উঠেন। তাঁর চোখে পানি চলে আসে।
বঙ্গবন্ধু গ্যালারিতে কথা হয় নারায়ণগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. রফিকউদ্দিন আহম্মদের ছেলে মোঃ মশিউর রহমান তারেকের সঙ্গে। পাশেই ছিলেন তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে। কেমন লাগছে বাণিজ্য মেলা- এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজধানীর বাইরে হলেও এলাকাটি সুন্দর। প্রাকৃতিক পরিবেশ। শান্ত। কয়েক বছর পর এখানকার পরিবেশ আরো সুন্দর হয়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই প্যাভিলিয়নে মেলায় আসা সবার একবার হলেও আসা উচিত। আরো তথ্য সমৃদ্ধি করে নতুন প্রজন্মকে জানাতে বৃহত্তর পরিসরে বঙ্গবন্ধু গ্যালারি স্থাপন করা প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্থায়ী কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক দিয়ে সরাসরি স্থায়ী প্যাভিলিয়নে গেলেই প্রথমে চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধুর এই গ্যালারি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন তুলে ধরতে প্রতি বছরের মতো এবারও এই গ্যালারি প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার বর্গফুটের এই গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত নিউজউইক ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দময় মূহুর্তের দুর্লভ ছবি। বাংলার সুখ দুঃখের ইতিহাস। তাঁর হাতের লেখা। দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য ব্যক্তিদের সাথে বঙ্গবন্ধুর ছবি। তাঁর লেখা বই। বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত জিনিসপত্র। আর নিথর দেহের ছবি। বঙ্গবন্ধুর আর স্বাধীনতার ইতিহাস। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, মুজিব কোট, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা বই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাণী গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে। সল্প পরিসরে যেন সবই রাখা হয়েছে। পুরো গ্যালারিটাই যেন একটি লাল সবুজের পতাকা। একটি স্বাধীন দেশ।
বঙ্গবন্ধু গ্যালারিতে দর্শনার্থীদর ভিড়। বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের ছবি গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বইও রয়েছে। গ্যালারিতে বঙ্গবন্ধুর বীর গাঁথা, কর্মচিন্তা, পররাষ্ট্রনীতি, ছয় দফা থেকে গণঅভ্যুত্থান, ছোট গল্পে বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলন, জীবনকথা ও চলচ্চিত্র, সাকিন টুঙ্গিপাড়া, গণপরিসদ ও সংবিধানসহ ৭০টি বই রয়েছে। এসকল বই গ্যালারির নির্দিষ্ট স্থানে বসে পড়া যায়। এসব বই ক্রয় করার ব্যবস্থা থাকলে আরো ভালো হতো বলে দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর হাতের লেখা উক্তিগুলো দর্শনার্থীরা গুরুত্বসহকারে পড়ছেন। আরো তথ্য সমৃদ্ধি করে নতুন প্রজন্মকে জানাতে বৃহত্তর পরিসরে বঙ্গবন্ধু গ্যালারি স্থাপন করা প্রয়োজন বলে দর্শনার্থীরা মনে করছেণ।
জাতীয় চার নেতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু, কণ্যা শিশুদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর লেখা চিঠি, রাজনৈতিক জীবনের ছবি, ৭ই মার্চের ভাষণ, কারাজীবন ও পরবর্তী জীবন, ব্যক্তি মুজিব ও বঙ্গবন্ধুর কারাগারে এসব বিষয়ই স্থান পেয়েছে গ্যালারিতে। গ্যালারির দেয়াল জুড়ে তথ্য ও ছবি স্থান পেয়েছে। সাজানো হয়েছে রাজনৈতিক দর্শন ও সংগ্রামী জীবনের বর্ণনা দিয়ে।
বঙ্গবন্ধুর জেলজীবন তুলে ধরতে প্রতীকী একটি জেলখানা গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে। ব্যতিক্রমধর্মী এই উপস্থাপনা দর্শকদের মনে সাড়া ফেলছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ , উক্তিসহ কর্মময় জীবন গ্যালারির তিনটি টেলিভিশনে সব সময় প্রদর্শন করা হচ্ছে।
গ্যালারির ইনচার্জ নুরুল আলম সরকার বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪-৫ হাজার দর্শক বঙ্গবন্ধু গ্যালারি পরিদর্শন করছে। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার দর্শকের সংখ্যা বেশি হচ্ছে।
ঢাকার উত্তরা থেকে আসা ব্যবসায়ী ওবায়দুল মজিদ জুয়েল বলেন, বঙ্গবন্ধু গ্যালারিটি সত্যিই অনুকরণীয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে ছেলেমেয়েরা সামান্যতম অনুকরণ করতে পারলেই তাদের জীবন সার্থক হবে।
ঢাকার টিকাতলী থেকে আসা কলেজ ছাত্রী মাসফিনা জান্নাত মাইমা বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনীসহ বইগুলো এখানে ক্রয় করতে পারলে ভালো হতো।

গতকাল ২৯ জানুয়ারি রবিবার বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বঙ্গবন্ধু গ্যালারী পরিদর্শন করেন। এসময় রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক বলেন, বঙ্গবন্ধু গণমানুষের নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সবার। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস সবাইকে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্য আমরা এই স্বাধীন দেশে পেয়েছি। তার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু গ্যালারী পরিদর্শন করলে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জে জননেত্রী শেখ হাসিনা আসবে। সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে যাবেন। আমরা নেত্রীকে দেখিয়ে দেবো রূপগঞ্জের মাটি শেখ হাসিনার ঘাঁটি। আগামী নির্বাচনে আমরা আবার শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করবো।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বাণিজ্য মেলায় বঙ্গবন্ধু গ্যালারি প্রদর্শিত হয়ে আসছে। তাতে সাড়াও পড়ে বেশ। বঙ্গবন্ধুর গ্যালারিতে সব সময়ই দর্শনার্থীদের আনাগোনা লেগেই থাকে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ