আজ বৃহস্পতিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

মাথার উপর বিদ্যুতের তার

শহরের অধিকাংশ বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলছে অসংখ্য ক্যাবল। এসব ক্যাবল সড়ক ও ফুটপাতে ঝুলে পড়েছে। যার কিছু মাটিতেও গড়াগড়ি খাচ্ছে। শহরে বেড়োলেই চোখে পড়বে এমন শতশত ক্যাবল লাইনের ছড়াাছড়ি। বিদ্যুতের খুঁটিতে লাগানো এসব ক্যাবলের কোনোটা ক্যাবল টিভির, কোনোটা ইন্টারনেট সংযোগের, আবার কোনটা জেনারেটর সহ রয়েছে অবৈধ বৈদ্যুতিক তারও। অপরিকল্পিতভাবে এসব ক্যাবল বিদ্যুতের খুঁটিতে লাগানোর ফলে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে নগরবাসী।

এদিকে দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্টদের কোন নজরদারী না থাকায় সড়ক ছেয়ে গেছে বিপজ্জনক তারে। মাথার ওপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার ঝুলছে প্রায় প্রতিটি সড়কে। ফুটপাত ও রাস্তা ঘেঁষে বিদ্যুতের খুঁটিতে বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে আছে অবৈধ বিদ্যুৎ, জেনারেটর, স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের ডিশলাইন ও ইন্টারনেটের শতশত তার। বিদ্যুতের খুঁটি, সড়ক বাতির খুঁটি, ভবন, মার্কেট, দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে দিয়ে এলোমেলোভাবে গেছে এসব তার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষায় ঝুলন্ত তার ছিঁড়ে বিভিন্ন সময় ঘটছে অগ্নিকান্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা৷

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর প্রধান সড়কসহ নিতাইগঞ্জ, বি.বি.রোড, কালিরবাজার, গলাচিপা, চাষাড়া, দেওভোগ, উকিল পাড়াাসহ কয়েকটি এলাকার অলি-গলিতে বৈদুতিক খুঁটি গুলোতে চুলের মতো ঝটলা পাকিয়ে আছে এসব ক্যাবলের তার। তাছাড়া ফুটপাতের অবৈধ সংযোগ বৈদ্যুতিক খুটির লাইন থেকে নেওয়ায় খুটি গুলোতেও চুলের মতো ঝটলা পাকিয়ে থাকে। বিভিন্ন সময়ে এসব তার ছিঁড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এসব তারের জঞ্জালে নগরের সৌন্দর্যহানিও হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতার কারণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন নগরবাসী।

নন্দীপাড়ার বাসিন্দা জয় বলেন, ঢাকা ও সিলেটে ইতিমধ্যে মাটির নিচ দিয়ে সব ধরণের তারের সংযোগ নেয়া শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কবে হবে সেটা কে জানে। উপরের দিকে তাকাইলেই শুধু তার আর তারের ঝটলা দেখতে পাই। যেকোন সময় আবার তার ছিঁড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। কয়েকদিন আগে নন্দিপাড়া লক্ষীনারায়ন মন্দিরের একই পরিবারে তিন জন মারা গেছে তারপরে ও বিদ্যুত অফিসের লোকদের কোন দায়িত্ব নাই। অনেকেই বলছেন, শহরকে তারের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করতে নগরে এলোপাতাড়ি থাকা বিদ্যুৎলাইন মাটির নিচে নেওয়ার কাজটি দ্রুত হলেই মঙ্গল।

অন্যদিকে তারের জঞ্জালে সৌন্দর্যহানি হচ্ছে গোটা শহরের। পুরনো তারে ত্রুটি দেখা দিলে সেগুলো না কেটেই নতুন তার লাগিয়ে নেয় সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসিনতা ও যথাযথ আইন প্রযোগে ব্যর্থতার কারণে তারের জঞ্জাল দিন দিন বাড়ছে। তেমনি বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। নান্দনিক শহর গড়ে তুলতে ও দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষায় তারের জঞ্জাল সরানো জরুরি বলে মনে করেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন বলেন, যদি কোন স্থানে কাটা তার পরে থাকে আমাদের লোক তা সরিয়ে দিবে। এছাড়া কোন খুটিতে যদি সংযোগ দেয়া অবস্থায় জঞ্জাল করা থাকে আমরা চেষ্টা করবো অন্তত চিঠি দিয়ে তাদের সেসব অপসারন করার জন্য। তা না হলে পরবর্তিতে আমরা ব্যবস্থা নিবো। তবে যারা এসব ক্যাবল তার সংযোগ দেয় তাদেরও সচেতন হতে হবে। এছাড়াও ডিপিডিসি, টিএন্ডটি, ইন্টারনেট ক্যাবল যারা সংযোগ দিচ্ছে এসব বিষয়গুলো তাদরেও সুদৃষ্টি দিতে হবে।

এ নিয়ে কথা বলতে ডিপিডিসি (পশ্চিম) প্রকৌশলী মো. আনিসকে ফোন দেয়া হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ