আজ রবিবার, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক:
ভারতের ১৫ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হয় ১৮ জুলাই । এই নির্বাচনে দেশটির ক্ষমতাসীন জোট বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চা (এনডিএ)-র প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ)-র প্রার্থী যশবন্ত সিনহা। দেশটির সংসদ সদস্য ও বিধায়ক মিলিয়ে ৪,৮০০ জন জনপ্রতিনিধি এই ভোটে অংশগ্রহণ করেন।

সকাল ১০টা থেকে দিল্লিতে সংসদ ভবন এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা ভবনে ভোটদান পর্ব শুরু হয়, সেই ভোট প্রক্রিয়া চলে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। গোপন ব্যালটেই ভোট হয়। যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে কোনো হুইপ জারি করা হয়নি, তাই বেগুনি কালিতেই ব্যালট পেপারে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয় ভোটাররা। সাংসদদের জন্য ছিল সবুজ ব্যালট ও বিধায়কদের জন্য গোলাপী ব্যালট।

দিল্লিতে সংসদ ভবনের প্রথম তলের ৬৩ নম্বর রুমটিকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র (পোলিং বুথ) হিসেবে পরিণত করা হয়। এদিন সকালে সেখানেই ভোট দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মানসুক মান্ডব্য, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরম, সমাজবাদী পার্টি সাংসদ মুলায়ম সিং যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) সাংসদ ফারুক আব্দুল্লাহ প্রমুখ। অসুস্থ শরীর নিয়েই হুইলচেয়ারে করে ভোট দিতে আসেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজ্যসভার সাংসদ ড. মনমোহন সিং।
বিকাল ৩ টা নাগাদ সংসদ ভবনে ভোট দেন কংগ্রেস সাংসদ সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খারগে, শশী থারুর, দ্বিগবিজয় সিং,অধীর রঞ্জন চৌধুরী বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানসহ একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় রাজ্য বিধানসভার ভবনেও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রায় প্রত্যেক বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর দুটো নাগাদ ভোট দিতে আসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুরের বিধায়ক মমতা ব্যানার্জি, মমতার ভাতিজা তথা দলের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি, রাজ্যের মন্ত্রী ফিরাদ হাকিম। যদিও রাজ্যের কয়েকজন বিজেপি সংসদ সদস্য দিল্লিতে ভোট দেন।

উত্তর প্রদেশ বিধানসভায় ভোট দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সহ বিধায়করা।

দিল্লি বিধানসভা ভবনে ভোট দেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির নেতা প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল। এছাড়া হরিয়ানা, তেলেঙ্গানা, গুজরাট, ত্রিপুরা, অসম সহ দেশের প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভা গুলিতে ভোট দেন সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিধায়করা।

এদিকে ভোট চলাকালীন সময়ে বিরোধী জোটের প্রার্থী যশবন্ত সিনহা ভোটারদের নিজেকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন এই নির্বাচনে ঠিক করবে দেশের গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না। তিনি বলেন, “আমি একাধিকবার বলেছি যে এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই নির্বাচনী ঠিক করবে যে আগামী দিনে দেশের ভারতের গণতন্ত্র থাকবে নাকি ধীরে ধীরে নিঃশেষিত হয়ে যাবে। আমরা যে ইঙ্গিত পাচ্ছি তাতে এটা পরিষ্কার আমরা আস্তে আস্তে শেষের দিকে যাচ্ছি।”

সাংসদ ও বিধায়কদের মোট মিলিত ভোটের মান ১০,৮৬,৪৩১। সেখানে নির্বাচনের জেতার জন্য প্রার্থীকে ৫,৪৩,২১৬ ভোট পেতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মুর জয়ের পাল্লা ভারী। মোট ভোটের অন্তত ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জিততে যাচ্ছেন দ্রৌপদী। সূত্রে খবর, বিজেপি সহ এনডিএ’এর শরিক দল গুলোর পাশাপাশি এনডিএ বিরোধী একাধিক দলও সমর্থন করেছেন তাকে। ফলে তার ঝুলিতে ভোট রয়েছে ৬.৬৭ লাখ।

সেক্ষেত্রে দ্রৌপদী মুর্মু যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তাহলে ভারতের নতুন ইতিহাস তৈরি হবে। কারণ তিনিই হবেন দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা।

দেশটির বিধায়কদের ভোট মূল্যে সবার আগে রয়েছে উত্তর প্রদেশ, এই রাজ্যটিতে প্রতি বিধায়কের ভোট মূল্য ২০৮, ঝাড়খন্ড ও তামিলনাড়ুতে বিধায়কের ভোট মূল্য ১৭৬, মহারাষ্ট্রে ১৭৫, পশ্চিমবঙ্গে ১৫১। বিধায়কদের ভোট মূল্য সবচেয়ে কম সিকিমে, মাত্র ৭, অরুণাচল প্রদেশ ও মিজোরামে ৮ এবং নাগাল্যান্ডে একজন বিধায়কের ভোট মূল্য ৯।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গণনা ২১ জুলাই। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন ২৫ জুলাই। একদিন আগেই ২৪ জুলাই বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

আগামী ৬ই আগস্ট উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থী পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়, অন্যদিকে বিরোধী জোটের প্রার্থী সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মার্গারেট আলভা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ