আজ শুক্রবার, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

আসন্ন নির্বাচনে বামদলগুলো না’গঞ্জে রাজপথের মতো ভোটের মাঠও কাঁপাবে!

বামদলগুলো

বামদলগুলো

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
এ বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিতে শুরু করছে নারায়ণগঞ্জের-৫ টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনেও অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির। বিএনপির সাথে সাথে তার শরিকদলগুলোরও একই অবস্থা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে নিবন্ধন করা দেশের অন্যান্য রাজনৈতিকদলগুলো।
আসন্ন নিবার্চন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী মাঠে সরব হয়ে উঠছে বাম দলগুলো। যদিও এসব নেতাদেরকে সাধারন জনগণ কিভাবে নিবে সেটা দেখার বিষয়। কারণ এর আগেও তারা তাদের প্রতি জনসমর্থন দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনীতি সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনী মাঠ কাঁপাতে যতটা সিদ্ধহস্ত এসব নেতা ও দলগুলো ততটা সিদ্ধহস্ত নয় ভোটের মাঠ কাঁপাতে। তবে এবারের নির্বাচনের আগে বামদলগুলো ও তাদের নেতাদের আত্মবিশ্বাসের পারদটা আগের চেয়ে একটু বেশিই। এর কারণ হচ্ছে সমসাময়িক সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে বেশ সক্রিয় ছিল দলগুলো। এছাড়া দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি রাজপথে কোনঠাসা থাকলেও সীমিত শক্তি ও সামর্থ নিয়ে বাম দলগুলো জনগণের বিভিন্ন দাবি আদায়ে রাজপথে থেকেছে। আর এসব দিক বিবেচনা করে তাদের আগের তুলনায় জনসর্মথনও বেশ বেড়েছে। আগামী নির্বাচনে তাই ভোটের মাঠেও এর ব্যাপক প্রভাব পরবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাম দলগুলো তাদের শক্তির অনেকটা বড় মহড়া দেখায় গেল অক্টোবর বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে। অক্টোবর বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে লাল পতাকার বিশাল মিছিল শহরবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।
সে সময় আলী আহম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনের সামনের সড়কে একটি সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছিলেন, আওয়ামীলীগ-বিএনপি কোন সরকারই দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। দেশের জন্য একটি হলো আপদ আরেকটি হলো বিপদ। তাই আগামী নির্বাচন হবে ত্রিমুখী লড়াই। নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনে শ্রমিকদের পক্ষে প্রার্থী দেয়া হবে। ত্রিমুখী লড়াইয়ে শ্রমিকদের পক্ষের প্রার্থীরাই জয়ী হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, ১৯৯১ সাল থেকেই সিপিবি বাসদ বামমোর্চা জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসছে এবং প্রত্যেক সংসদেই আমাদের জোট থেকে প্রার্থীরা প্রতিনিধিত্বও করেছে। নির্বাচনের পরিবেশ যখন সৃষ্টি হবে, সকল দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয় তাহলে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করবো।
তিনি আরও বলেন, ৫ই জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
বাম দলগুলো আন্দোলনে সফল হলেও ভোটের মাঠে তেমন সুবিধা করতে পারছেনা এরকম প্রেক্ষাপট নিয়ে হাফিজ বলেন, মানুষ আমাদের উপর আন্দোলনে আস্থা রাখলেও ভোটের ক্ষেত্রে সে আস্থা রাখতে পারছেনা। মানুষ মনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি জয়ী হবে তাই তারা আমাদেরকে ভোট দিতে চায় না। তবে এ অবস্থার পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী এই নেতা আরও বলেন, জনগণের আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হবো আমরা। আর এজন্য দরকার নির্বাচনি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। আমরা এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করেছি নির্বাচনি ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস বলেন, নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক হয় এবং সকলের অংশগ্রহনে হয় সেই নির্বাচনে আমরা অংশ নিবো।
বর্তমান ভোটের যে সিস্টেম আছে সেই সিস্টেম পরিবর্তন করে, কালো টাকা, পেশিশক্তিবিহীন এবং সবার সমান সুযোগ সম্বলিত নির্বাচন ব্যবস্থা হলে বর্তমানে বাম দলগুলোর জাতীয় সংসদে বেশি প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন বাসদের নিখিল দাস।
গণসংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন বলেন, আমাদের দল বাম দল নয়। আমাদের দল একটি গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল দল।
আগামী নির্বাচন নিয়ে তরুন এই রাজনীতিক বলেন, আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া নির্ভর করে নির্বাচনের পরিবেশের উপর। বর্তমান সরকারের অধিনে কোন সুষ্ঠ নির্বাচন হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে আগে তারপরে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয় আসবে।
ভোট এবং আন্দোলন সংগ্রাম এক নয় উল্লেখ করে তরিকুল সুজন আরও বলেন, যারা আন্দোলন সংগ্রাম করে মানে বামদেরকে মানুষ বিশ্বাস করে। যার ফলে বামদের আন্দোলন সংগ্রাম সফলতা পায়। অন্যদিকে, আমাদের দেশের মানুষের ধারনা, বামরা কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবেনা তাই তাদের ভোট দিয়ে কোন লাভ নেই।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ