আজ বৃহস্পতিবার, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশকে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পেট্রাপোল সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হবে। বাংলাদেশকে দেয়া হবে না ফারাক্কার জল।মঙ্গলবার আসানসোলে তিনি এ হুশিয়ারি দেন।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হিন্দুরা নির্মম অত্যাচারের শিকার হচ্ছে। আর সরকার কার্যত নির্বিকার। এই অবস্থা চললে ভারত ব্যবস্থা নেবে। বাংলাদেশে ভারতীয় বাণিজ্য বন্ধ করা হবে। বাংলাদেশের কোনো পণ্য ঢুকতে দেয়া হবে না। এছাড়াও ফারাক্কার জল বন্টন বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও তিনি বলেন।

বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নীরবতা সম্পর্কে শুভেন্দু বলেন, যিনি সব বিষয়ে আগ বাড়িয়ে মন্তব্য করেন তার এই বিষয়ে নীরবতা বিস্ময়কর।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শুভেন্দু অধিকারী মধ্য কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে গিয়ে উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসানের সঙ্গে দেখা করেন। সূত্রের খবরে জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সহিংসতা বন্ধের দাবি তুলে শুভেন্দু অধিকারী পরে সাংবাদিকদের বলেন, গত রাতেও (রোববার রাতে) রংপুর জেলায় মৎস্যজীবীদের ওপর হামলা হয়েছে, তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী কোনো স্মারকলিপি অবশ্য উপহাইকমিশনে জমা দেননি। তিনি জানিয়েছেন, ই–মেইলে আজ মঙ্গলবার তাঁর বক্তব্য লিখিত আকারে তিনি উপহাইকমিশনে পাঠিয়ে দেবেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে আরও বেশ কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।
সোমবার রাতে শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রনীতির বাধ্যবাধকতার কথা মাথায় রেখেই তিনি তাঁর বক্তব্য বাংলাদেশের উপহাইকমিশনারকে জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, যেহেতু সংখ্যালঘুদের ভোটে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তাই বাংলাদেশের ঘটনায় তিনি এখন মুখ বন্ধ করে রয়েছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অবশ্য মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিষয়টিকে ইস্যু করার প্রধান কারণ রাজ্যের চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৩০ অক্টোবরের উপনির্বাচন। আপাতত হাতে কোনো ইস্যু না থাকায় এবং কৃষক আন্দোলনসহ নানা ঘটনায় কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকার চাপে থাকায় বাংলাদেশের ঘটনাকে ইস্যু করে উপনির্বাচন লড়তে চাইছে বিজেপি। বিজেপিও পাল্টা অভিযোগ করেছে, তৃণমূল কংগ্রেস আবার নতুন করে সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি শুরু করেছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ