আজ বুধবার, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পাল্টা-পাল্টি হুংকার

স্টাফ রিপোর্টার :

ক্ষমতাসীন দলের এমপি শামীম ওসমান ও বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের মাঝে বিভেদ নতুন নয়। সেই ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুজন। নৌকা পাওয়া শামীম ওসমানকে সেবার গিয়াস উদ্দিন পরাজিত করেছিলেন ধানের শীষ দিয়ে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও একই আসন থেকে দুজন দু’দলের মনোনিত প্রার্থী হতে পারেন- এমনটা চাউর হচ্ছে তাদের কর্মী সমর্থকদের মাঝে। এরই মাঝে একে অপরকে উদ্দেশ্য করে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেছেন। শামীম ওসমানের হুংকারের পর পাল্টা হুংকার দিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন। এতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি নগরীতে পদযাত্রা করে গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। ওই পদযাত্রায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল দেখা যায়। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-নেত্রী এবং সরকারের বিরুদ্দে নানা শ্লোগাণ দেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শামীম ওসমান বিএনপি নেতাদের প্রতি হুংকার ছেড়ে বলেন, ‘বিএনপির প্রোগ্রামে শ্লোগান দিয়েছে। তারা বলেছে, ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম, শেখ হাসিনার বাবার নাম’। ধৈর্য ধরেছি। পাঁচ মিনিটও লাগবে না আপনাদের মাটির নিচ থেকে খুঁজে বের করে আনতে। জনগণ ভীমরুলের চাক নিয়ে আপনাদের সামনে এসে হাজির হবে।’

সম্প্রতি রাইফেল ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক কর্মী সভায় শামীম ওসমান গিয়াস উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে কয়েকটা পিপিলিকার পাখনা গজাইছে। আপনাদের কারণে ২০০১ সালে আমাদের শত শত নেতাকর্মীরা বাসায় ফিরতে পারে নাই। কত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছেন। আপনারা কি করতে চাচ্ছেন সেটা যদি বাংলাদেশের হাতে গোনা ১০-১২ জন খবর রাখে, তাদের মধ্যে শামীম ওসমান একটা।’

এছাড়াও, গিয়াস উদ্দিন জেলা বিএনপির নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকে তার সংসদীয় আমলের নানা দিক তুলে ধরে অভিযোগ তুলে থাকেন শামীম ওসমান।

এরই মাঝে গতকাল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন করে জেলা বিএনপি। এতে সভাপতির বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘সাবধান হয়ে যান। অতীতে যা করেছেন তার ফল পেয়েছেন। কাজেই এগুলো বাদ দিয়ে দিন। নারায়ণগঞ্জ কারও ব্যক্তিগত সম্পদ না। মুক্তিযুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছি। কারও রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। আপনারা কর্মসূচি দিলে লোক পান না। গার্মেন্টস বন্ধ করে লোক নিয়ে আসতে হয়। তারা হুমকি দিচ্ছে বিএনপির সমর্থকদের পাঁচ মিনিটে খুঁড়ে বের করে ফেলবে। পাঁচ মিনিটে ধ্বংস করে দিবে। অনেক কথাই বলে। জনগণ একটি সুযোগ পেলেই আপনাদের বিতাড়িত করবে এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।’

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলছেন, শামীম ওসমান যেমন গিয়াস উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেছেন, তেমনই গিয়াস উদ্দিনও শামীম ওসমানকে ছেড়ে কথা বলেননি। আগামীতে এই দুই নেতার হুংকার পাল্টা হুংকারে আরো সরগরম উঠবে রাজনৈতিক অঙ্গন।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ