১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, সন্ধ্যা ৭:৪৭

পানি চোরদের সংযোগ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ওয়াসার আমল থেকে অবৈধ পানির সংযোগ ও নলকূপ বৈধ করার জন্য বিভিন্ন্ ওয়ার্ডে সুযোগ দিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)। ইতিমধ্যে দু’টি ওয়ার্ডে এই সুযোগের মেয়াদ শেষ হয়েছে। জরিমানা ছাড়া অবৈধ সংযোগ বৈধ করার এ সুযোগ পেয়েও যারা বৈধ করবে না তাদের সংযোগ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে নাসিক।

জানা গেছে, ২০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পানি সরবরাহ বিভাগ (সাবেক ওয়াসা) আওতাধীন আবাসিক, শিল্প, ও বাণিজ্যিক হোল্ডিংয়ের অবৈধ পানির সংযোগ এবং অনুনোমদন বিহীন গভীর নলকূপ জরিমানা ব্যতিত বৈধ করার কার্যক্রম শুরু করে। এই কার্যক্রমের মেয়াদ শেষ হয় গতকাল বৃস্পতিবার।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার এক নির্দেশে বলা হয়েছে, যারা এই সময়ের মধ্যে পানির সংযোগ ও গভীর নলকূপের বৈধতা না করলে তাদের বিরুদ্ধে সংযোগ বিছিন্নসহ আইনাণুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ওই নির্দেশে আরও বলা হয় ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফয়সাল সাগরের কার্যলয়ে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে এই সুযোগ না নিয়ে অবৈধ সংযোগ দিয়ে পানি ব্যবহার করবেন তাদের ছাড় দিবে নাসিক।

এ প্রসঙ্গে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফয়সাল সাগর জানান, গতকাল আবেদনের সময় শেষ হয়েছে বন্দরের ১৯ ও সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। ওয়াসার সময় যারা অবৈধ পানির সংযোগ লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানি ব্যবহার করেছেন তাদের জরিমানা ছাড়া একটি সুযোগ দিয়েছিলো নাসিক। এই আবেদনের মাধ্যমে যারা বৈধ হয়েছেন তারা জ্ঞানী আর যারা সংযোগ বৈধ করার জন্য আবেদন করেনি। নাসিক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান এই কাউন্সিলর।

সূত্রে জানা গেছে, গতবছরের ৩১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) কাছে ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম হস্তান্তর করা হয়। রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিকের সুরমা হলে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিও প্রকৌশলী তাকসিম এ খান এবং নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জে ৩১টি গভীর নলক‚প, ৩২টি স্ট্রিট হাইড্রেন্ট, ওভারহেড ওয়াটার টাংক আটটি, পানি শোধনাগার আছে দু’টি। সর্বমোট ভূমির পরিমাণ ১০.৭৫৫৯৮ একর নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে নাসিক।

নারায়ণগঞ্জ ওয়াসার গোদলাইন পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক ৪.৫০ কোটি লিটার পানি শোধন করা হবে এবং সোনাকান্দা পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক ১.২০ কোটি লিটার পানি পাওয়া যায়। যা নারায়ণগঞ্জে পানির চাহিদা মেটানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখনো বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ সংযোগ দিয়ে লুকিয়ে পানি ব্যবহার করছে। যা বৈধ করার জন্য সুযোগ দিচ্ছেন নাসিক।

প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালের পহেলা জুলাই থেকে ঢাকা ওয়াসা (ওয়াটার অ্যান্ড সোয়ারেজ অথরিটি) নারায়ণগঞ্জ জোনে তাদের সার্ভিস পরিচালনা করে আসছিল। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হওয়ার পর ২০১২ সাল থেকে ওয়াসার কার্যক্রম নাসিকের কাছে হস্তান্তর করার ব্যাপারে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গতবছর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বুঝয়ে দেয় ঢাকা ওয়াসা।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ