১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, বিকাল ৫:০২

নৌকা সমর্থকদের উপর বিদ্রোহী প্রার্থীর হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ায় নৌকা সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। হামলায় পুলিশ সহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৭টার দিকে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কায়েতপাড়া আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এই প্রতিবেদককে জানান, গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে কায়েতপাড়া থেকে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম। এবার তিনি প্রার্থী হন নাই। রফিকের আপন ছোট ভাই মিজান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। রফিক তার ভাইকে সরাসরি মদদ দিয়ে যাচ্ছেন এবং নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহ করছেন।

নৌকা প্রতিকের প্রার্থী জাহেদ আলীর সমর্থক জোৎস্না বেগম অভিযোগ করে জানান, তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী মহিলালীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া তিনিসহ বর্তমান মেম্বার মোশারফ হোসেনও মেম্বার প্রার্থী হিসেবে দাড়িয়েছেন। বুধবার ছিলো প্রতিক বরাদ্দ। সন্ধ্যায় নৌকা প্রতিকের পক্ষে জোৎস্নাআরা বেগম ও মোশারফ হোসেনসহ দলীয় সমর্থকরা নাওড়া এলাকায় আনন্দ মিছিল বের করেন। এসময় বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতিক মিজানুর রহমান মিজানের উপস্থিতিতে জসিম উদ্দিন জসুর নেতৃত্বে তাদের লোকজন অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ”অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক অ্যাকশন, হাত-পা কাটাইলা, চোখ খোলাইলা” এধরনের হুমকিস্বরূপ স্লোগান দিয়ে পাল্টা মিছিল বের করেন। এক পর্যায়ে নৌকা প্রতিকের সমর্থকদের উপর অতর্কিত হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ ঘটিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। হামলায় ওয়াসিম, আমির হামজা, ফজলুল হক, দুলাল, ডাগু,পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ একটি ককটেল উদ্ধার করে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এব্যাপারে আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ জাহেদ আলী বলেন, ২৭ অক্টোবর বুধবার প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে আমার অনুপস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীরা নাওড়া এলাকায় গণসংযোগকালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিনা উষ্কানিতে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে জসীম উদ্দিন জসুর নেতৃত্বে তার সমর্থিত সন্ত্রাসীরা অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত এ হামলা চালায়। হামলায় বহিরাগত সন্ত্রাসীরাও অংশ নেয়।

এবিষয়ে আনারস প্রতিকের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজানের সঙ্গে তার সেল ফোনে গণমাধ্যম কর্মীরা যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্যে করতে রাজি হননি।

নারায়ণগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) আবির হোসেন সংবাদচর্চাকে বলেন, একজন পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। একটা ককটেল উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা হবে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ