আজ মঙ্গলবার, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নীরবতার রহস্য কী

স্টাফ রিপোর্টার :

নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দরের ১৭টি ওয়ার্ডে সম্মেলন হলেও থমকে আছে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডের কার্যক্রম। এমপি শামীম ওসমান এই ১০ ওয়ার্ডের দায়িত্ব নিলেও এই প্রসঙ্গে তিনি চুপসে আছেন। ফলে ওয়ার্ড কমিটিগুলোর সম্মেলন সম্পন্ন না হওয়ায় থেমে আছে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনও। তা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে দলটির তৃণমূলে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরি সদস্য পদে আছেন। তিনি ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি। মহানগরের অধিনস্থ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাটি এমপি শামীম ওসমানের নির্বাচিত এলাকা। এই অঞ্চলে শামীম ওসমানের বেশ কর্মী সমর্থক রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সেক্রেটারিও শামীম ওসমানের আস্থাভাজন কর্মী বা অনুসারী। এক কথায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা কিংবা স্থানীয় আওয়ামী লীগও শামীম ওসমানের কব্জায় রয়েছে। এরপরও সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডে শামীম ওসমান কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু না করায় নানা প্রশ্ন উঠছে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে।

এদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনে শামীম ওসমান নীরবতা পালন করলেও একই অঞ্চলে শামীম ওসমানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন। ইতিমধ্যেই সিদ্ধিরগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপির সম্মেলন হয়েছে। থানার সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগের তুলনায় সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপি এখন সাংগটনিক দিক থেকে বেশ গতিশীল হয়ে উঠেছে। তবে, এখানে আওয়ামী লীগ এখনো নিজেদের নতুন করে গুছিয়ে তুলতে পারেনি। তা নিয়ে দলটির তৃণমূলে আক্ষেপ-অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের তীর ছুটছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দিকেই। যেখানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা সহ কমিটির অন্যান্য পদস্থ নেতারা ধারাবাহিক ভাবে মহানগরের সদর-বন্দরের ১৭টি ওয়ার্ডে সম্মেলন করেছেন, সেখানে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব কাধে নিয়েও রহস্যজনক কারণে চুপসে আছেন শামীম ওসমান।

সমালোচকরা বলছেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় ইদানিং নারায়ণগঞ্জে দেখা মিলছে শামীম ওসমানের। ঢাকা থেকে এসে তিনি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, বক্তব্যও রাখছেন। তবে, দলের সাংগঠনিক প্রশ্নে তিনি উদাসীন। সিদ্ধিরগঞ্জের সম্মেলন যেমন থমকে আছে, তেমনই ফতুল্লার অধিনস্থ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনও হচ্ছে না।

প্রশ্ন উঠেছে, সাংগঠনিক তৎপরতা বেগবান করতে বাধা কোথায় শামীম ওসমানের? এই সিদ্ধিরগঞ্জেই তো প্রভাবপ্রতিপত্তি রয়েছে তার। এই অঞ্চলের আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাদের সিংহভাগই তার অনুসারী। আধিপত্য নিয়ে অনুসারীদের মাঝে বিরোধের খবর শোনা গেলেও শামীম ওসমানের নামের উপর অনুসারীরা ‘এক ঘাটে পানি পান করেন’ এমন কথাও প্রচলিত। এরপরও শামীম ওসমান ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনগুলোকে সাংগঠনিক দিক থেকে গুছিয়ে নিতে পারেননি। রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল বলছেন, এটি শামীম ওসমানের ব্যর্থতাই বটে।

অথচ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অধিনস্থ ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ শামীম ওসমানেরই নির্বাচনী এলাকা। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও তিনি এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন- এমন প্রত্যাশা করেন তার অনুগতরা। কিন্তু শামীম ওসমান তার নির্বাচনী এলাকা অর্থাৎ নিজ ঘরেই দলকে গুছিয়ে তুলতে পারেননি। কেবল আওয়ামী লীগই নয় বরং সহযোগী সংগঠনগুলোরও কোন বালাই নেই সিদ্ধিরগঞ্জে।

ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির কোন অস্তিত্ব নেই এখানে। প্রায় দেড় যুগ পুরনো এসব সহযোগি সংগঠনের নেতাদের বেশীর ভাগই আওয়ামী লীগের কমিটিতে চলে এসেছেন। আবার কমিটি বিড়ম্বনার কারণে অনেকের ভাগ্যে তাও জোটেনি। বার্ধক্যের দিকে উপনীত হলেও অনেকের নামের পাশে এখনো রয়েছে ছাত্রলীগের টাইটেল। দলের এমন পরিস্থিতিতে আগামীতে ভুগতে হবে আওয়ামী লীগকেই। সাংগঠনিক ভাবে পোক্ত না হওয়ার বিরুপ প্রভাব পরার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী জাতীয় নির্বাচনে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ