১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, রাত ১১:৪৫

নির্বাচন ঘিরে ‘ষড়যন্ত্র’

বিষাদসিন্দু:

সামনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বহু আগের থেকেই শুরু হয়েছে নানামুখি খেলা। এই খেলার একটাই লক্ষ্য, মেয়র আইভীকে বধ করা। যে করেই হোক, যে কোনো মূল্যেই হোক তাকে চেয়ারহারা করতেই হবে। একইভাবে ১৯৮৪ সালেও এমন খেলা হয়েছিলো এই শহরে। যা প্রত্যক্ষ করেছিলেন হাজারও মানুষ। এবারও সেই পুরনো খেলা নতুন রূপে সামনে আনা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, অতীতে যে খেলা হয়েছিলো তার টার্গেট ছিলেন আইভীর পিতা আলী আহাম্মদ চুনকা। তখনও ওই খেলার অংশ হিসেবে সামনে আনা হয়েছিলো জিউস পুকুর। এবারও সেই একই ভাবে সামনে আনা হচ্ছে এই জিউস পুকুর। মাঝে মাঝে সাইড পরিবর্তন করে কখনও মডেল মসজিদ. কখনও হেফাজতকে সামনে রেখে খেলতে চেয়েছিলো খেলারাম। যদিও এসব অভিযোগ ছিলো ঠুনকো। ধোপে টিকেনি। তাই এবার জিউস পুকুরকেই মূল হাতিয়ার করা হয়েছে হিন্দু ভোট বিয়োগের পরিকল্পনা থেকে। পাশাপাশি আইভীকে বিতর্কিত করার মূল লক্ষ্য ঠিক রেখেই জিউস পুকুরকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে বারবারই। অথচ এই পুকুরের মালিকানা অংশ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। তারপরও হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি শ্রেণিকে বারবারই মাঠে নামাচ্ছে একটি পক্ষ।

সূত্র মতে, বিগত ২০১১ ও ২০১৬ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইভীর বিরুদ্ধেও এ খেলার পাঁয়তারা হয়েছে। আইভী কর্তৃক সংখ্যালঘু হিন্দু সম্পত্তি দখল সম্পর্কিত গোপন লিফলেট তখনো বিলি হয়েছে। তবে, সাধারন হিন্দুরা সে সময় এ পুরানো খেলায় কোনো রকম আগ্রহ দেখায়নি।

সম্প্রতি মেয়র আইভী ও তার পরিবার কর্তৃক লক্ষ্মীনারায়ণ আখড়ার সম্পত্তি ‘জিউস পুকুর’ দখলের অভিযোগে শহরের হিন্দু সম্প্রদায় মানব বন্ধন করেছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ এ মানব বন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধন থেকে সাত দিনের আল্টিমেটামও দিয়েছে তারা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আইভীর বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র দেখেই বুঝা যাচ্ছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন এসে গেছে। কারণ, অতীত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৮৪ সালে আলী আহাম্মদ চুনকার বিরুদ্ধে যখন এ অভিযোগ তোলা হয়েছিল তখন সামনেই ছিল পৌরসভা নির্বাচন। এরপর ২০১১ ও ২০১৬ সালে যখন এ অভিযোগে আইভীর বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করা হলো তখন ছিল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এসব করা হয় হিন্দুভোট বিয়োগ করতে। এবারও সিটি করপোরেশন নির্বাচন এগিয়ে এসেছে। কয়েক মাসের মধ্যেই নির্বাচন। এ মানববন্ধন আয়োজনে যে দুটি হিন্দু সংগঠনকে দেখা যায় তারা শুধু নয়। তাদের পেছনেও রয়েছে সংগঠিত শক্তি। যাদের দেখা যাচ্ছে না। এখানে আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. খোকন সাহা ও চন্দন শীলের পেছনেও তাকাতে হবে। আরো কেউ আছে কিনা?

এদিকে জিউস পুকুর সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র আইভী জানিয়েছিলেন, “এই সম্পত্তির সাথে আমার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা নাই। ১৯৮৪ সালে আমার বাবার বিরুদ্ধেও তারা এই ধরণের অভিযোগ এনেছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বলা হয়েছিল, আমার বাবা এই সম্পত্তি দখল করছে ১৯৮৪ সালে। আজকে ৩৭ বছর পর পুনরায় তারা আমার বিরুদ্ধে একই ধরনের স্বড়যন্ত্র করছে। এই জায়গার মালিক কে? এই জায়গা কে ক্রয় করছে? সেটা খুঁজে বের করার জন্য আমি সাংবাদিক ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি এবং প্রকৃত সম্পত্তির মালিক কে, সেটা আপনারা বিচার করে দেখেন এটা কি দখল করছে না ক্রয় করছে?”

নারায়ণগঞ্জে তার আত্মীয় স্বজনদের জায়গা কিনা নিষেধ কিনা এমন প্রশ্ন তুলে আইভী বলেন, “আমার আত্মীয় স্বজনদের জায়গা জমি কেনা নিশ্চয় নিষেধ না। এই শহরে যদি অন্য আট দশজন জায়গা কিনতে পারে, তাহলে আমার আত্মীয় স্বজনও কিনতে পারবে। সেই আত্মীয় স্বজন বৈধ ভাবে কিনলো না অবৈধ ভাবে কিনলো সেটাই দেখার বিষয়। যদি বৈধভাবে কিনে থাকে তাহলে সেইটা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে এত বড় ষড়যন্ত্র কেন? আর যদি অবৈধ ভাবে কিনে থাকে তাহলে আদালত আছে, আদালতের দ্বারস্থ হোক, যারা কিনছে তাদের ব্যাপারে। যেখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, সেখানে বুঝাই যাচ্ছে টোটাল জিনিসটাকে আমার বিরুদ্ধে কে বা কারা গভীর ষড়যন্ত্র করছে ইলেকশনকে সামনে রেখে।”

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ