আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’, আঘাত হানবে কখন-কোথায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আজ (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার পর পরবর্তী ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় বেশ কয়েকটি জেলায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট অধিক জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
রোববার (২৬ মে) আবহাওয়ার ১২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক।
আবহাওয়া অফিস বলছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে বৃষ্টিসহ দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে।

কখন, কোথায় আঘাত হানবে:
ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আজ ২৬ মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে মোংলার কাছ দিয়ে সাগর আইল্যান্ড (পশ্চিমবঙ্গ) খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র অতিক্রমের পর এর নিম্নভাগ অতিক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা:
আজ দুপুরে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এরই মধ্যে কক্সবাজারের বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার সদরের কুতুবদিয়া পাড়া সমিতি পাড়াসহ জেলার ১০টি গ্রামে সাগরের জোয়ারের পানি ঢুকেছে। সন্ধ্যায় উপকূল এলাকায় ৫ থেকে ৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে জলোচ্ছ্বাসের কথা বলেছে আবহাওয়া অফিস।

সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও অদূরবর্তী দ্বীপ-চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট অধিক জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়ার ১২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধ্বস হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ:
ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে রোববার (২৫ মে) দুপুর ১২টা থেকে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রাথমিকভাবে রাত ৮টা পর্যন্ত এ ঘোষণা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ