আজ মঙ্গলবার, ১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

দখলে বিলিন হচ্ছে বাবুরাইলের খাল

স্টাফ রিপোর্টার :

দখল দূষণে হারিয়ে যাওয়ার পথে কাশিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বাবুরাইল খালের শাখা খাল। দেওভোগ নাগবাড়ি হতে ১নম্বর বাবুরাইল তাঁতিপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ খালটি দখল দূষণের শিকারে পরিণত হয়েছে নালায়। খালিটি পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম হওয়ায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতার শিকার হতে হচ্ছে নাগবাড়িসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের। প্রতিবছর জটিলতা হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে দখলদারদের সংখ্যা। বর্তমানে খালটি প্রায় বিলিন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, কাশিপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বয়ে যাওয়া শাখা খালটি দেওভোগ নাগবাড়ি হতে ১নম্বর বাবুরাইল তাঁতিপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ। যা তাঁতিপাড়া এলাকায় এসে বাবুরাইল খালে মিলিত হয়েছে। পরে বাবুরাইল খাল আবার একদিকে ধলেশ^রী ও অন্যদিকে শীতলক্ষ্যায় নদীতে মিলিত হয়েছে। তাই দেওভোগ, নাগবাড়ি, আমবাগান, তাঁতিপাড়াসহ আশেপাশের এলাকার পানি এই খালে নিষ্কাশন হয়ে প্রথমে বাবুরাইল খাল এবং পরে ধলেশ^রী ও শীতলক্ষ্যায় গিয়ে পড়ে।
এদিকে গত ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর খাল দখল করে গড়ে উঠা নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে খালের উপর। সে ঘটনায় ভবনের নিচে চাপা পরে ইফতেখার আলম ওয়াজেদ (১৩) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ওই সময় এ ঘটনায় খালটি দখলের বিষয়টি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সে তদন্ত কমিটি ও প্রতিবেদন সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেনি জেলা প্রশাসনের বর্তমান কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা জানায়, দখলের কারণে খালটি অনেক সরু হয়ে গেছে। এর উপর ধসে পরা ভবনের অবশিষ্ট অংশ থেকে যাওয়ায় গত বর্ষার মৌসুমে খাল দিয়ে ঠিক মত পানি প্রবাহিত হতে পারছিল না। ফলে দেওভোগ ও নাগবাড়ি এলাকায় অনেক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। শেষে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে খাল ভবনের অংশ ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাবুরাইল খালের যে অংশে শাখা খালটি মিলিত হয়েছে সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ব্রিজে দাঁড়ালে খালটি দেখা যায় না। কেননা খাল দখলেল বিষয়টি লোকচক্ষুর আড়ালে রাখার জন্য বিজের উপর দেয়া হয়েছে টিন শেডে। শেড এড়িয়ে উকি দিলে দেখা যায়, খালের দুই পাশ দখলের কারণে শাখা খালটি নালায় পরিণত হয়েছে। পাড়সহ খালের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন, দোকান, গ্যারেজ ও বসতবাড়ি। ময়লা, আবর্জনায় ভাগারের কারণে বুঝা দায় এটি একটি প্রবাহমান খাল।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারজানা হোসেন মিষ্টি বলেন, এ খাল দীর্ঘদিনের। খালটা এক সময় বড় ছিল কিন্তু এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে। তবু এখনো আমাদের বসতবাড়ির সব পানি এ খালেই ফেলা হয়। এমনকি ড্রেনের মুখও এ খালে দেয়া। খালটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। যে যেভাবে পারছে দখল করে নিচ্ছে। এই দখলের কারণে গতবছর নাগবাড়িতে জলাবদ্ধতা হয়। পরে অনেকে মিলে খাল ভেকু দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।
শাখা খালটির কথা জানতে চাইলে প্রথমে চেনতেই পারেনি কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ুব আলী। পরে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি বলেন, ওইটা এখন আর খাল বলা যায় না। এমন অবস্থা হয়েছে।
খালটি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ধসে পরা ভবনের মালিক ভবনটি একজন ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। ঠিকাদার ধীরে ধীরে ভবন ভেঙ্গে নিয়ে যায়। কিন্তু পানির নিচের অংশ তারা নেয়নি। শেষে পানি চলাচলে বাধা হওয়ায় স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বাকিটা পরিষ্কার করে।
জানতে চাইলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাইলাতুল হোসেন বলেন, এ খালের বিষয়ে আমার তেমন কিছু জানান নেই। আমি খোঁজ নিয়ে জানাবো। উপজেলার খালের বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো তথ্য বা তালিকা রাখা হয় না বলে জানান তিনি।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ