১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ৮:১১

তাদের ওয়ার্ডে শঙ্কা

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক প্রার্থী । স্থানীয় প্রশাসন বলছেন সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিছু ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসীয়,চাঁদাবাজ, বহু মামলার আসামি এবার ভোটে লড়ছেন। অনেকের আবার শিক্ষাগত যোগ্যতা খুবই কম। গেলবার যারা কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হয়েছিলেন তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ মাদক, চাঁদাবাজি ,নাশকতা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। সেই বিতর্কিতরা এবারও লড়ছেন।

সূত্রের খবর নাসিক ১, ২, ৩,৪, ৫, ৬,৮,১২,১৩,১৪,১৬, ১৭, ১৮, ২২, ২৩,২৪ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। বহু ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। ঐ সব ওয়ার্ডে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা। সংঘর্ষ হতে পারে। সাধারণ ভোটারদের মাঝে হোন্ডাবাহিনীর আতঙ্ক আছে । এলাকাবাসী ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযানও শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০১৯ সালে চাঁদাবাজি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৭ ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু কে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই বছর ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধানসহ তার চারজন সহযোগীকে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। দুলালের বিরুদ্ধে এবার লড়ছেন সাবেক এমপির ছেলে আশা।
এর আগে ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসানকে ৪৮ ক্যান বিয়ার ও বোতল বিদেশী মদসহ গ্রেপ্তার করেছিলো র‌্যাব-১১’র একটি টিম।

হেফাজতের হরতালে নাশকতা ও সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনকে গত ৭ এপ্রিল গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১।

নাসিক ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার শাহজালাল বাদল। এবারও তিনি লড়ছেন।
মসজিদ কমিটির পদ নিয়ে ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসেনের সাথে সাবেক কাউন্সিল মুন্না বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয় ২০১৯ সালে।

অন্যদিকে সব থেকে বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সিটির ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড। এর মধ্যে ৫ নং ওয়ার্ডে গেল কিছুদিন আগের থেকেই বহিরাগতদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়াতে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামী পশ্চিম কলাবাগ এলাকার মিজানুর রহমান, শরিফ হোসেন ও বসির উদ্দিন বসুর নেতৃত্বে প্রতিদিনই বহিরাগতরা এই ওয়ার্ডে যাতায়াত করছেন এবং একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে সাধারণ ভোটারদের প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

৬ নং ওয়ার্ডে বহিরাগতদের আনাগোনা তেমন বৃদ্ধি না পেলেও এই ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মতিউর রহমান মতি ও সিরাজুল ইসলাম মন্ডল সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কোনো মূল্যে তারা নির্বাচিত হওয়ার মানসিকতা পোষণ করায় ভোটের দিন সংঘাত সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকে। কারো কারো মতে, এই দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তারা দুজনই সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি।
১৮ নং ওয়ার্ডেও ভোট নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী কবির হোসাইন ও কামরুল ইসলাম মুন্না সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে এই দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পোস্টার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনাও ঘটেছিল। এছাড়াও কামরুল ইসলাম মুন্নার নির্বাচনী মাঠে থাকা মাদক ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বিটুকে র‌্যাব আটকও করেছে।
অপরদিকে ২২ নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা সুলতান ও ছাত্রলীগ নেতা খান মাসুদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত এখানে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটকে কেন্দ্র করে বলপ্রয়োগের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ভোটাররা। ২৪ নং ওয়ার্ডে অত্যাধিক শঙ্কা রয়েছে । এই ওয়ার্ডে জাপা নেতা কাউন্সিলর প্রার্থী আফজাল হোসেন ও খোকন ভেন্ডার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এইতোমধ্যে খোকন ভোরের ওপর দুইবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন খোকন।

সচেতন মহল জানান, নগরবাসীকে বুঝে শুনে ভোট প্রয়োগ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিরা যদি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকে তাহলে উন্নয়ন থমকে যাবে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ