১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, রাত ৪:৩০

তল্লায় ফের গ্যাসের বুদ বুদ

সংবাদচর্চা অনলাইনঃ

পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদের কাছাকাছি পূর্ব দিকের রাস্তায় দু’টি স্থানে গ্যাসের বুদ বুদ দেখেছে স্থানীয়রা। শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা গ্যাস লাইনের বুদবুদের কারণে ফের তিতাসের উপর ক্ষিপ্ত হন। বুদ বুদের কথা শুনে মসজিদের সামনে আশপাশের লোকজন এসে জড়ো হয়। এ সময় প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় এই গ্যাস নির্গত দেখা গেছে। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর ওই মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর তিতাস তদন্ত দল মসজিদ ঘেষে যাওয়া গ্যাস লাইনে ৬টি লিকেজ পেয়েছিলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর গ্যাসের চাপ বেশী থাকায় বুদ বুদ হয়। পরে চাপ কমে গেলে তা আর দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এখানেও লিকেজ রয়েছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিতাসের কোন লোকজন আসেনি এখানে এতে এলাকার লোকজন তিতাস কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। এলাকার লোকজন বলাবলি করেছে তিতাস নাকি লিকেজ পায়না। অথচ একের পর লিকেজ বেড় হচ্ছে। এলাকাবাসির ধারণা এই এলকায় আরও অনেকে লিকেজ রয়েছে তিতাসের পাইপ লাইনে।

স্থানীয় বাসিন্দা পি.কে রাসেল বলেন, মৃত বন্ধুর মিলাদ শেষ বাড়িতে যাওয়ার সময় দেখতে পাই মসজিদের কাছাকাছ মূল রাস্তায় মাটির ভেতর থেকে গ্যাস বেড় হচ্ছে। এলাকার অনেকেই কিছুক্ষনের মধ্যে এই তা দেখতে চলে আসেন। প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় এই গ্যাস হতে দেখেছে সবাই। পরে গ্যাসের চাপ কমে গেলে বুদ বুদ বন্ধ হয়ে যায়।

আরেক বাসিন্দা ড্যানি মিয়া জানান, এলাকার অনেকে দেখেছে গ্যাস বেড় হচ্ছে। দুইটি স্থান দিয়ে গ্যাস বেড় হচ্ছিল তখন। মসজিদের পূর্ব দিকের রাস্তায় যে গ্যাসের পাইপ রয়েছে সেই পাইপ দিয়ে গ্যাস বেড় হয়েছে বলে জানান তিনি। আরও কোথায় কোথায় গ্যাসের পাইপে লিকেজ রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন স্থানীয় এই বাসিন্দা।

এ প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জ জোনের উপ মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মফিজুল ইসলাম জানান, মসজিদের রাস্তার কোথাও গ্যাস বেড় হচ্ছে এ ধরনের তথ্য আমাদের এখনো কেউ দেয়নি। তবে যদি কোন স্থান গ্যাস বের হয় তাহলে সেই জায়গাটি চেক করে মেরামত করে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, আমরা এখনো মাটি ভরাটের কাজ শেষ করিনি।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে পৌনে ৯টায় ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মসজিদের মুয়াজ্জিন, ইমাম, শিশু, শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ফটোসাংবাদিকসহ ৩৭ জন দগ্ধ হয়। যাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে গত শুক্রবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ