১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, রাত ৩:৪৯

টিকটক সংস্কৃতি রুখতে হবে

টিকটক নামক একটি এ্যাপসে অভিনয় করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করার মধ্য দিয়ে নিজেদের হিরো-হিরোইন ভাবে অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েরা। বর্তমানে টিকটক বন্ধ থাকলেও লাইকি নামক অন্য একটি এ্যাপসে তা করছে শিশু-কিশোররা। এমনটা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা দুর্ঘটনার শিকার হয় তারা। ১০ জুলাই ফতুল্লার পূর্ব লামাপাড়া এলাকার একটি বাড়ির ছাদে এ অভিনয় করতে গিয়ে অনিক নামের এক যুবক ৩৩ কেভি বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের তারে জড়িয়ে যায়। এতে করে তার শরীরের বেশীর ভাগ অংশ ঝলসে যায়।
এমন কান্ডে এর আগেও আহত হয়েছে কয়েকজন। জানা গেছে, টিকটক বন্ধ করে দেয়া হলেও লাইকি নামের এ্যাপ এখনও চালু রয়েছে। সরকারিভাবে এ এ্যাপও হয়তো বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে প্রশ্ন হলো, একটার পর একটা এ্যাপ বন্ধ করলেই সমাধান হবে না। বরং এমন বিজাতীয় সংস্কৃতির দিকে শিশু কিশোররা যেন পা না বাড়ায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। আর এজন্য পরিবারকে খেয়াল রাখতে হবে।
ইদানিং শিশুদের হাতেও স্মার্ট মোবাইল ফোন তুলে দেয়া হচ্ছে। সিম কিনার পারমিশন না থাকলেও বাবা- মা কিংবা পরিবারের বড় কোন সদস্যের নামে সিম কিনে তা ব্যবহার করছে অল্পবয়সীরা। ওরা টাকা দিয়ে নেট কিনে অথবা আশপাশের কোন ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড নিয়ে সারাক্ষন মোবাইল মনিটরে চোখ রাখে। কেউ গেম খেলে কেউবার ছবি-গান দেখে। তবে দেশীয় সংস্কৃতির দিকে নজর কম এই শিশু-কিশোরদের। বাবা-মাও এ নিয়ে তেমন মাথা ঘামান না। আবার কোন বাবা মা চাইলেও সন্তানদের শাসনে রাখতে পারেন না।
বিদেশী অপসংস্কৃতি রুখতে হলে এখনি পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, প্রশাসন, রাষ্ট্রের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তবেই আগামী দিনের নাগরিক অনিকদের শরীর ঝলসানোর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ