১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, সকাল ৬:৪৫

‘জিয়া কত মানুষ হত্যা করেছেন খুঁজে বের করুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কি পরিমাণ মানুষ হত্যা করা হয়েছে তা খুঁজে বের করার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের সংসদ সদস্যদের একটা উদ্যোগ নেওয়া উচিত, জিয়ার আমলে প্রত্যেকটা কারাগারে কত মানুষকে ফাঁসি দিয়ে মারা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা এবং কুমিল্লায়। একটার পর একটা ক্যু আর শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেগুলো একটু খুঁজে বের করে দেখেন।’
জিয়া যে ’৭৫ এর জাতির পিতার হত্যার সঙ্গে জড়িত সেই অভিযোগ পুনরায় উত্থাপন করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ’৭৫ এর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়া যে জড়িত এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি তাকে আসামি করতে চেয়েছিলাম। তখন আমাদের হোম সেক্রেটারি ছিল রেজাউল হায়াত, সে বলল মৃত মানুষকেতো আসামি করা যায় না। কিন্তু আমার মনে হয় নামটা থাকা উচিত ছিল। জিয়া যে ষড়যন্ত্রে জড়িত তাতো ফারুক- রশিদ নিজেরাই বলেছে বিবিসি’র ইন্টারভিউতে।

মানুষের ভোট ধ্বংস করে ভোটের ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্টটা জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে করেছে। ব্যাংকের থেকে টাকা নিয়ে লোন শোধ না করার কালচার তার শুরু করা। মানুষকে দুর্নীতিবাজ করা। মেধাবী ছাত্রদের একহাতে পুরস্কার দিয়েছে অন্যহাতে তাদের অস্ত্র, অর্থ তুলে দিয়ে বিপথে পাঠিয়েছে। জিয়া আসলে বহুদলীয় নয়, দেশে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে জিয়ার কবর (সংসদের সীমানায় থাকা) নিয়ে কথা উঠেছে। জিয়ার মৃত্যু সংবাদের পর তার লাশ পাওয়া যায়নি। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল। আর কয়েকদিন পরে একটা বাক্স আনা হলো।
মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে দেওয়া ঘর কারা ভেঙেছে (আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প) সেটা দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে দেখে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটা আমরা তদন্ত করেছি। দেখা গেছে নয়টি জায়গায় আমরা দুর্নীতি পেয়েছি। আর ১০/১২টা জায়গায় যেখানে অতিবৃষ্টি হলো সেই বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে ঘর পড়ে গেছে। সেখানে কিন্তু আরও অনেক ঘর ছিল। প্রত্যেকটি ঘরের ছবি আমার কাছে আছে। পুরো তদন্তে দেখা গেছে।

তিনি বলেন, সেখানে দরজা জানালার উপরে হাতুড়ির আঘাত, ফ্লোরগুলো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ভাঙা। ইটের গাঁথনির পিলার সেটা ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা তো দুর্নীতির জন্য হয় নাই। এটা কারা করলো? তবে হ্যাঁ, কারা করেছে তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু এরেস্ট হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসময় নারায়ণগঞ্জ-১ ( রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ,বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ