আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

জটিল সমীকরণে ‘সেক্রেটারি’

সংবাদচর্চা রিপোর্ট :

দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় পর পূর্নতা পেয়েছিলো বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি। ২০১৯ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি হিসেবে এম.এ রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজিম উদ্দিন প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর, ২০২২ সালের এপ্রিলে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিনের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পদটি শূন্য হয়। উক্ত পদে আসীন হতে ইতোমধ্যে স্থানীয় গণমাধ্যমে বিভিন্ন জনের নাম উঠে এসেছে। যার মধে জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম আহম্মেদ, ও মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ গাজী সালাম।
তবে দুজনেই কেউ এখন পর্যন্ত কোথায় বক্তব্য দিয়ে প্রকাশ করেনি যে তাঁরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে এদের অনুসারীরা তাদের নেতাদের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক সাধারণ সম্পাদকের শূন্যতায় যেখানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অগ্রাধিকার পাবে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
জানা গেছে, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখা হয়েছে। তারা হলেন প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভোলানাথ দাস, দ্বিতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লা এবং তৃতীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন। তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে তৃতীয় সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সাধারণ সম্পাদক হতে জোড় লবিং চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গঠনতন্ত্র মোতাবাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের বাইরে থেকে কাউকে যদি সাধারণ সম্পাদক করতে হয় তবে সেই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। এক্ষেত্রে যদি তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকই দায়িত্ব নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তাহলে দলের বর্ধিত সভায় নেতৃবৃন্দরা সম্মতিক্রমে যাকে সাধারণ সম্পাদক করবেন তিনিই নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২০২২ সালে ৮মে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ফরাজীকান্দা এলাকার হাজী আলতাফ মাহমুদ কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক মিলন মেলায় কমিটির নতুন সদস্যদের এক পরিচিতি সভার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে দীর্ঘ ১৫ বছর অপেক্ষার পর ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর বন্দরের মদনপুর এলাকায় এক ত্রি-বর্ষিক কাউন্সিলের মাধ্যমে এমএ রশিদকে সভাপতি ও কাজিমউদ্দিন প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। সে সময় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার জন্য তিন মাসের সময় বেধে দেওয় হয়। তারপর প্রায় আড়াই বছর পার করার পর গত এপ্রিল মাসের ১২এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্বাক্ষর করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল)।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও যারা কমিটিতে রয়েছেন তারা হলেন সহসভাপতি পদে সিরাজুল ইসলাম, আঃ রাজ্জাক মিয়া, আজিজুল হক আজিজ, মাইনুদ্দিন আহমেদ, এম.এ গাজী সালাম, সোনামিয়া,রফিকুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ বাবু ও আক্তার হোসেন বিএ। সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম আহমেদ, এমএ রউফ ও মো. আমির হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ পদে গোলাম মোস্তফা রবি।
অন্যান্য পদের মধ্যে যারা আছেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন পনির, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পিয়ার জাহান ভূইয়া, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী মো. আনিছ, দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক মাহাবুবুল হক খোকন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মো. আইয়ুব, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল ভূইয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হাজী কাশেম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রোমান হোসাইন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার (মুন্নী), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হোসেন ভূইয়া, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রধান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. মোক্তার হোসেন, সাস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম জুয়েল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাই, সহ দপ্তর সম্পাদক বন্দরের আ. ছাত্তার শামীম, এবং সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রবিউল আউয়াল রবি। সাধারণ সদস্য পদে মো. সফি উদ্দিন, আলমাছ ভূইয়া, আমিরুজ্জামান, ইব্রাহীম কাশেম, এডভোকেট ইসহাক, মুজিবুর রহমান সহ বেশ কয়েকজন।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ