১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ৩:৩৫

ছিন্নমূলের বিছানায় কালি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

দেশের রেলস্টেশন গুলোকে ছিন্নমূল গৃহহীনদের আশ্রয়স্থল বলা চলে। বিশাল ছাউনি এদের সুরক্ষা দেয় রোদ বৃষ্টি থেকে। ভিক্ষা বৃত্তি, মানসিক অসুস্থ কিংবা গৃহহীনদের রাতের একমাত্র আশ্রয়স্থল হয় রেলস্টেশনগুলো। নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনও এর ব্যতিক্রম নয়। শহরের চাষাঢ়া ও নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনে রাতে কনক্রিটের বিছানায় ঘুমায় এসকল ছিন্নমূল মানুষরা। কিন্তু তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করতে এবার কালি লেপন করে দিয়েছে স্টেশন কতৃপক্ষ।

সরজমিনে নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের বসার স্থানে লেপন করা হয়েছে কালি। দেখে বোঝাই যায় পোড়া মবিল মেখে রাখা হয়েছে সিটগুলোতে। সাধারণত দিনে যাত্রীরা বসলেও রাতে এখানেই শুয়ে পড়ে গৃহহীনরা। তবে করোনা কালে দীর্ঘসময় ধরে যাত্রীদের পদধুলি না পড়ায় বেশ ছিমছাম ও পরিচ্ছন্ন স্টেশনের দেখা মেলে। কিন্তু যেই সিটে দিনে যাত্রীরা আর রাতে গৃহহীনরা আশ্রয় নিত সেখানে কালি মেখে রাখা হয়েছে।

স্টেশনে থাকা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, কে বা কারা এসে এই কালি মেখে দিয়ে যায়। একই সাথে বলে যায় গৃহহীনদের দূরে সরে যেতে। মূলত বর্ষা মৌসুমের পূর্বে স্টেশনের ফ্লোরেই আশ্রয় নিতে পারতো ছিন্নমূল মানুষরা। কিন্তু বর্ষার টানা বৃষ্টিতে ফ্লোর ভেজা থাকে অধিকাংশ সময়। সেই কারনেই ছিন্নমূল মানুষরা যাত্রীদের বসার সিটে ঘুমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেই বাঁধ সাধেন তথাকথিত উঁচু শ্রেনীর মানুষরা। রাতে কোনক্রমেই যেন সিটে অবস্থান করতে না পারে সেজন্য মেখে দেয়া হয়েছে কালি।

এ ব্যাপারে কথা হয় নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার গোলাম মোস্তফার সাথে। তিনি বলেন, করোনা কালে এক বেঞ্চে অনেকে বসে আড্ডা দেয়। একসাথে সবাই বসলে সংক্রমন ছড়াবে। খুব দ্রুতই রেল চালু হবে এখন এই আড্ডাবাজি বন্ধ করতে আমরা কালি দিয়েছি।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ