আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চার ধারায় বিভক্ত বিএনপি

সংবাদচর্চা রিপোর্ট : সারাদেশে একাট্টা হয়ে সরকারবিরোধী ‘এক দফা আন্দোলন’ করছে বিএনপি। সেই আন্দোলনে আছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিও, তবে একাট্টা নয়, বরং চতুর্ভুজের আকার ধারণ করে চার ধারায় বিভক্ত তারা। এতে করে রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছের জেলা ও ঢাকার প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে বিএনপি সকল সামর্থ্য, শক্তি ও লোকবল থাকার পরেও আন্দোলনের মাঠে কিছুটা বেকায়দায় পড়ছে প্রায়ই।
একাধিক সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি নিয়ে তৃনমূলে দীর্ঘদিন বিভিন্ন অভিযোগ-অনুযোগ ছিল। আগের কমিটিগুলোর নেতাদের রাজপথে পাওয়া যেতো কালেভদ্রে। এমনকি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের সাথে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আঁতাত ও লিয়াজো রেখে চলার বিষয়টি ছিল জেলাজুড়ে ওপেন সিক্রেট, যা একপর্যায়ে পৌঁছে যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবধি। এরপর তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের হাতে তুলে দেন জেলা বিএনপির দায়িত্ব। গিয়াসউদ্দিন হন আহ্বায়ক (বর্তমানে সভাপতি) ও গোলাম ফারুক খোকন হন সদস্য সচিব (বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক। এরপর থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে জেলা বিএনপি। দলের প্রতিটি কর্মসূচিতেই নেতাকর্মী ও জনসাধারণ নেমে আসে রাস্তায়। কিন্তু তারেক রহমানের দেওয়া কমিটিতে যাদের ঠাঁই হয়নি, তারা নিজেদেরকে পদবঞ্চিত ভাবতে শুরু করেন। ফলে প্রতিহিংসা থেকে বিএনপিতে একের পর এক ধারার তৈরি করেন। গুঞ্জন রয়েছে, এতে ইন্ধন জোগাচ্ছেন আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী এমপি।
একাধিক সূত্র জানায়, জেলা বিএনপিতে এক ধারার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া। তার সাথে তাল মেলাচ্ছেন কাউন্সিলর শকুসহ গুটিকয়েক তৃতীয় সারির নেতা। উল্লেখ্য, শকুর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে কাউন্সিলর পদ ধরে রাখা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়া ও বিগত ১২ বছরেও বিএনপির জন্য রাজপথে না নামাসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে বিএনপির তৃনমূলে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপিতে কোন্দলের রাজনীতি জিইয়ে রাখতে সেই শকু পাশে থাকছেন দিপু।
জেলা বিএনপির আরেকটি ধারার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ। ‘ওয়ানম্যান শো’ নেতা হিসেবে পরিচিত মামুন নারায়ণগঞ্জের একটি প্রভাবশালী পরিবারের আজ্ঞাবহ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে স্মরণকালের দুর্বলতম বিএনপিকেই প্রত্যক্ষ করেছে জেলাবাসী, এমনটিই অভিমত বোদ্ধামহলের। অবশ্য এতে দলের ক্ষতি হলেও একটি নির্দিষ্ট মহল থেকে ‘ভদ্রলোক’ খেতাবও জুটেছে তার। তথাকথিত ভদ্রলোক মামুন অবশ্য নিজের নামের আগে ‘অধ্যাপক’ পদবীও যুক্ত করে থাকেন। যদিও ওই পদবী নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও বিভিন্ন সময়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মামুনের সাথে এই ধারায় যোগ দিয়েছেন ফতুল্লার পদবঞ্চিত জাহিদ হাসান রোজেল ও কুতুবপুরের পদবঞ্চিত নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লা। সময়-সুযোগ বুঝেই রাজপথেই নামেন তারা।
অপরদিকে জেলা বিএনপিতে আরেকটি ধারা বেড়ে উঠেছে আড়াইহাজারের বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমনের মাধ্যমে। তার সাথে রয়েছেন যুবদল ও ছাত্রদলের গুটিকয়েক নেতা। যদিও সুমনের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে আঁতাতের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে মামলা-হামলা থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখেন তিনি, তবে কোন্দল তৈরি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি তিনি।
জেলা বিএনপির মূল ধারা হিসেবে পরিচিত সভাপতি গিয়াসউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনের বলয়। জেলার অধিকাংশ নেতাকর্মীই এতে সম্পৃক্ত। যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও এই মূল দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কমান্ড মেনেই রাজনীতি করছেন। তবে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে গড়ে ওঠা অন্যান্য ধারাগুলোর কারণে আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিএনপি। প্রায়ই আলাদা ব্যানারে বা পৃথকভাবে গুটিকয়েক নেতাকর্মী নিয়ে জেলা বিএনপির কমান্ডের বাইরে গিয়ে কিছু নেতা কর্মসূচি পালন করায় বিব্রত হতে হচ্ছে মূল ধারাকে। এতে করে অনৈক্যের বার্তাও যাচ্ছে কেন্দ্রে, যা নিশ্চিতভাবেই বিএনপির অলআউট আন্দোলনে প্রভাব ফেলবে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ