আজ বুধবার, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চানমারিতে প্রকাশ্য মাদক বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক : কিছুটা বিরতি দিয়ে আবারও খুলেছে চাঁনমারী মাদকের স্পট। এ যেন ভয়কে পিছনে ফেলে হারানো সাম্রায্য পুনরুদ্ধারের এক ভয়ানক যুদ্ধে নেমেছে সেই ওরা। মাঝের বেশ কিছুটা সময় অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের কলঙ্কতম এই অধ্যায়ের। তবে মনে হচ্ছে ওই বিরতীতেই শক্তির সঞ্চার করে মাঠে ফিরেছে পূর্বের সেই কর্তাব্যক্তিরা। অনেকের মতে প্রশাসনের কতিপয় অসাধুদের অনুমতি ব্যতিরেখে এভাবে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির দুঃসাহস করোরই হতোনা। কিন্তু মাদক সাম্রাজ্যের প্রভুদের পক্ষেই সম্ভব অসাধ্য সাধন করা এবং হয়েছেও তাই। সকলের দৃষ্টিতে দৃষ্টিকটু সেই চিত্রটি দৃশ্যায়িত হলেও যেন কিছুতেই নজড়ে পরছেনা সেই প্রশাসনের।

গতকাল শুক্রবার দুপুর ৩টা ১৬ মিনিটে সরেজমিনে গিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের একটু অদূরের পূর্ব দিকে চাঁনমারী মইক্রোবাস স্ট্যান্ডের উল্টো পাশে পুরনো সেই দৃশ্যপটের দেখা মিলে। সেখানে দেখা যায়, একগুচ্ছ লোকের নজর আটকে আছে একজনকে ঘিরে। নাম পরিচয়হীন সকলের মধ্যমণি সেই ব্যক্তি হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা না হলেও তার মধ্যে সেখানকার উপস্থিতিদের মোহিত করারমত শক্তি ছিল। আর সেখানে যাদের উপস্থিতি ছিল তাদের সকলের হাতেই একগুচ্ছ টাকার সমরাহ দেখা গিছে। তীব্র তাপদাহে উপার্জিত সেই টাকার বিনি ময়ে তাঁদের দৃষ্টিতে সুখ কিনছেন তারা। আদতে সেটি ছিল প্রাণঘাতি হেরোইন।

নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের মূল কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়ে থাকে চাঁনমারী নতুন কোর্ট এলাকাকে। সেখানে প্রশাসনের সর্বচ্চ পদধারীতে অফিস ও আভাসস্থল। জেলা দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ডিএসবি, এনএসআইসহ সরকারি বহু গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দ (ডিবি) পুলিশের কার্যলয় ও জেলা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এতকিছু থাকা সত্তেও অনেকটা ভয়হীনভাবেই চাঁনমারীতে চলে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি। মাঝের কিছুটা সময় সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেটি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হলেও আবারও সেখানে মাদকসেবী ও মাদক মাফিয়াদের আগুনা বেড়ে যাওয়ার দেখা মিলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চাঁনমারীর অভিশপ্ত এই মাদককারবারী চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আইনের আউতায় আনতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এদের মধ্যে শরীফ ছিল অন্যতম। গেল ২০২২ সালের ২৯ জুলাই চাঁনমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হেরোইন ও গাঁজাসহ শরীফ ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা পুলিশ। মূলত চাঁনমারীর মাদক কারবারীতে জড়িত আছে একগুচ্ছ নারী।

জেলা পুলিশ ও নারায়ণগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের তথ্যমতে চাঁনমারী এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রন জড়িত আছে মাদক ব্যবসায়ী লেবু মিয়ার স্ত্রী রুমী, খোরশেদের স্ত্রী হাসি বেগম, হাফিজুরের স্ত্রী সাজু বেগম, জেলেখা বেগম, সজীবের স্ত্রী নাজমা বেগম, শাহজাহানের মেয়ে মৌসুমি বেগম, সুমন মিয়ার স্ত্রী মোসা. লাকী বেগম, লাকী বেগমর বোন মোসা. ময়না বেগম, খোকা মিয়ার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম, কাজলের স্ত্রী নাজমা বেগম, হালিমের মেয়ে ও সাজুর স্ত্রী পারভীন, কামালের স্ত্রী মোসা. সেফালী আক্তার, মো. কালু, মো. রিপন, মো. খাদেম, আজিজ, ময়না, ইতি, বৃষ্টি, সজিব মিয়া, মো. সৌরভ, মো. মানিক, মো. কাজল, মো. জসিম মিয়া, মো. মাসুদ, আকাশ, মো. হযরত আলী, মো. মাসুম মিয়া, ফারুক, হাফিজুরসহ আরো বেশ কয়েকজন।

সেখানকার স্থানীয়দের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের পোশাকধারী ব্যক্তিরা প্রতিদিন সিএনজির পর্দার আড়ালে মুখ লুকিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখেন তারা। তাঁদেরমতে পুলিশের টাকা নেওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। এমনটি প্রতিনিয়তই ঘটছে। এলাকাটি ফতুল্লা থানার আউতাভূক্ত হওয়ায় মাদক স্পট থেকে টাকা নেওয়া পুলিশ সদস্যরা ওই থানারই সদস্য হতে পারে বালে মত স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরে আযম মিয়া সংবাদচর্চাকে বলেন, শুধু চাঁনমারী নয় মাদকের বিচরণ আছে এমন সব জায়গায় মাদক নির্মূলে কাজ করছে পুলিশ। যারা এ সকল অপকের্ম জড়িত তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক দীপু খান সংবাদচর্চাকে বলেন, ইতিপূর্বে এলাকাটিতে অভিযান চালিয়ে দুইজন চিহ্নিত নারী মাদক বিক্রেতাকে আটকের পর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। এরা জামিনে বের হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়। এলাকাটিতে আবারও অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ