আজ মঙ্গলবার, ১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চমক থাকছে রূপগঞ্জে

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:
আসন্ন রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা তৎপর। চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান ,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবার থাকছে চমক। তবে এ তিন পদ নিয়ে রূপগঞ্জে খেলা শুরু হয়েছে। অধিকাংশ প্রার্থী গাজী পরিবারের সমর্থন নেওয়ার জন্য লবিং চালাচ্ছে। কিছু প্রার্থী গোপনে লবিং নিয়ে ব্যস্ত । নেতাদের মধ্যে গ্রুপিংও লক্ষ্য করা যাচ্ছে । দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ মে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসি সচিব রাশেদা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এবার রূপগঞ্জে ভোট হবে হাই ভোল্টেজ। চেয়ারম্যানের চেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রূপগঞ্জে এবার প্রার্থীর ছড়াছড়ি । বিশেষ করে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মাঠ চুষে বেড়াচ্ছে। দলীয় প্রতীক না থাকায় চেয়ারম্যান পদে এবার রূপগঞ্জে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে । চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি ও তারাব পৌরসভার মেয়র হাছিনা গাজী, প্রচারণা চালাচ্ছে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাবিবুল কাদির তমাল, রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মো: হাবিবুর রহমান। এর বাইরে তৃণমূলের কিছু নেতা রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পাকে একবারের জন্য রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী করার দাবি তুলেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেজ, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, এড.স্বপনের নাম শোনা যাচ্ছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদেও চমক থাকছে। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন বতর্মান ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা, রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার রেহেনা আক্তার, রূপগঞ্জ উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফেরদৌসী আক্তার রিয়া, মহিলা লীগ নেত্রী ফেরদৌসী আক্তার রুমা।
গত এমপি নির্বাচনে গোলাম দস্তগীর গাজীর কাছে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন ভূমিদস্যুদের এমপি প্রার্থী শাহজাহান ভুঁইয়া। ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে লড়ে নৌকা প্রতীকে গোলাম দস্তগীর গাজী পেয়েছেন ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৪শ ৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভুঁইয়া কেটলী প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৭৫ ভোট। তৃণমুল বিএনপির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার সোনালী পাটের আশ প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ১ শত ৯০ ভোট। জাতীয় পাটির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১হাজার ৫শত ৬৫ ভোট। আলমিরা প্রতীকে হাবিবুর রহমান পেয়েছে ১শ ৬৫ ভোট। শাহজাহান ভূইয়া, তৈমূর আলম তাদের নিজ ভোট কেন্দ্রে গাজীর কাছে পরাজিত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে রূপগঞ্জে ভোট পড়ে ৫৫.১৪%। সংসদ নির্বাচনের মতো রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও গাজী পরিবার যাকে চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সমর্থন করবে সেই বিজয়ী হবে। ভূমিদস্যুরা গাজী সাহেবের প্রার্থীর বিপক্ষে শাহজাহান ভুঁইয়া ও তার অনুগতদের প্রার্থী করবে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। তবে উপজেলা নির্বাচনে এবার আর ভূমিদস্যুদের প্রার্থীকে ছাড় দেবে না স্থানীয় সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক।
তারাব পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি হাছিনা গাজী বলেন , উপজেলা নির্বাচন করার জন্য আমাকে রূপগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ ভোট দিচ্ছে। আমি সবার দোয়া চাই। আমি জনগণের সাথে আছি। জনগণের সেবা করাই আমার কাজ। তারাব পৌরসভাকে আমি বদলে দিয়েছি। উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে সারা রূপগঞ্জের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেলে অবশ্যই আমি সেবা করবো।
হাছিনা গাজী আরও বলেন, রূপগঞ্জে মহিলা লীগ এবং যুব মহিলা লীগকে আমি সুসংগঠিত করেছি। প্রত্যেকদিন আমার নেতাকর্মীরা আমাকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করার কথা বলছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেন , কোন নির্বাচনেই রূপগঞ্জে ভূমিদস্যুদের প্রার্থীকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা ভূমিদস্যুদের সন্ত্রাসী ও প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মাঠে আছি।
রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার রেহেনা আক্তার দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, নির্বাচন করাটা ভাগ্যের ব্যাপার। আমি দীর্ঘদিন যাবত রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার করে যাচ্ছি। আমি সবার দোয়া চাই। আমি মাঠে আছি।
রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী তাবিবুল কাদির তমাল জানান, অনেক বড় নেতার সাথে লড়েছি। আমি মাঠে এখন প্রচার করে যাচ্ছি।

রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক মহোদয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে রূপগঞ্জকে আরও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এমন প্রার্থীকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা উচিত।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ