আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কালাম-বাবুর বাগযুদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার :

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালাম ও বাবু ওমরের মাঝে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বাবু ওমরকে ফুটপাত ও অবৈধ স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজ এবং ধান্ধাবাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন মাহফুজুর রহমান কালাম। এর প্রেক্ষিতে গতকাল বিশাল সভা করে কালামকে মাদক কারবারি হিসেবে আখ্যায়িত করার মাধ্যমে পাল্টা বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাবু ওমর। এমন মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যের কারণে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। যেকোনো সময়ে তাদের কর্মী সমর্থকরা সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে বলে সোনারগাঁয়ের সাধারণ মানুষের মাঝে শঙ্কা তৈরী হয়েছে।
জানা গেছে, বিগত উপজেলা নির্বাচনে সোনারগাঁয়ে চেয়ারম্যান হতে যারপরনাই চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম। সেই বার দলীয় প্রতিকে নির্বাচন হলেও নৌকা না পেয়ে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নির্বাচন করেছিলেন কালাম। যদিও ভোটের খেলায় পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে এমপি পদে মনোনয়ন চাইলেও বঞ্চিত হয়েছেন। এবারের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতিক না থাকায় যেন কোমর বেধেই মাঠে নেমেছেন কালাম।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন বাবুল ওমর বাবু। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বাবুর নিজ এলাকা সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে একক আধিপত্য গড়ে তোলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ব্যস্ততম অঞ্চল কাঁচপুরের ফুটপাত থেকে শুরু করে অবৈধ স্ট্যান্ড; সব কিছুই বাবুর নিয়ন্ত্রণে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকলেও এবার তিনি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। দলীয় প্রতীক না থাকায় বাবু ওমরও কোমর বেধে ভোটের মাঠে নেমেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সোনারগাঁয়ে একাধিক প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছেন মাহফুজুর রহমান কালাম এবং বাবু ওমর। অর্থবৃত্ত এবং লোক বলের দিকে থেকে দুজনেই বেশ সামর্থবান। যদিও রাজনীতিতে বেশ প্রবীন এবং দক্ষতার বিচারে কালামকে এগিয়ে রাখছেন অনেকে। তবে নিজ বক্তব্য এবং কর্মগুণে কালাম সমালোচিত হয়েছেন বারংবার। এক্ষেত্রে বাবু ওমরকে নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ভোটাররা বলছেন, এবারের নির্বাচনে কালাম ও বাবু ওমরের টক্কর হবে জমজমাট।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের নোয়াগাঁ ইউনিয়ন ২ ও ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে বিঞ্চাদী বাজার সংলগ্ন ভলিবল খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় মাহফুজুর রহমান কালাম তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাবু ওমরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘পাঁচ বছর আগে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করছে। আর আসে নাই এলাকায়। ভাইস চেয়ারম্যান হইয়া ওইখানে যা করার তাই করছে। চাঁদাবাজী থেকে শুরু করে ধান্দাবাজীর কোনো কিছুই বাকি রাখে নাই নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মানুষ গত ৫ বছরেও তার চেহারা দেখে নাই। এই চেয়ারটা ব্যবহার কইরা টাকা কামাইছে। সেই টাকা নিয়া আবার আসতাছে। এবার চেয়ারম্যান হতে পারলে চাঁদার রেট বাড়বে। গতবার যেখানে চাঁদাবাজী করছে ১০০ টাকা, এবার চেয়ারম্যান হলে সেখানে করবে ২০০ টাকা। চাঁদাবাজী দ্বিগুণ হইয়া যাইবো। মানুষ ফুটপাতে বসে কষ্ট করে টাকা রোজগার করে, সেই টাকাও চাঁদাবাজী করে, অটোচালক কত কষ্ট করে টাকা রোজগার করে, সেই অটো চালকের কাছ থেকে টাকাটা নেয়, তার বিবেক কাঁপে না। এবারের নির্বাচন হবে ফুটপাত চাঁদাবাজ, অটোরিক্সা চাঁদাবাজ, সিএনজি-ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজ, বাস স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে।’
বাবু ওমরকে নিয়ে কালামের এমন মন্তব্যের পর আলোচনার পারদ তুঙ্গে উঠেছিল। এবার সমাবেশ করে কালামকে পাল্টা জবাব দিয়েছে বাবু ওমর। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চেঙ্গাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বাবু ওমর বলেন, ‘এত বড় জনসভা দেখে হয়তো সে (কালাম) পাগলও হয়ে যেতে পারে। বাবা তুমি ৩৮ বছর রাজনীতি করে কি দিছো সোনারগাঁয়ে? সোনারগাঁয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবা আর অপকর্ম ছাড়া কিছুই দিতে পারো নাই।’
বাবু ওমর আরও বলেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ-আল-কায়সার শপথের পরে সারা সোনারগাঁয়ের শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আলেম-ওলামাগণসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তিনি দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেখানে সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন দুর্ভোগসহ বেকার যুবক যারা চাকুরি পাচ্ছে না এসকল বিষয়সহ স্মার্ট সোনারগাঁ গড়ার লক্ষ্যে তিনি সকলের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। আমি এবং আমার বড় ভাই অংশগ্রহণ করেছি। আজকে যারা আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়, আমি চাঁদাবাজ, সেই ভদ্রলোক কিন্তু দাওয়াত পায়নি। কারণ সে অসচ্ছ লোক। এ কারণে তাকে দাওয়াত দেয়নি। আমি বাবু এবং আমার ভাই মোশারফ দাওয়াত পেয়েছিলাম। যারা মাদকবিরোধী এবং ভূমিদস্যু বিরোধী তাদের দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। যে ভদ্রলোক আমাদের চাঁদাবাজসহ নানা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। উনারা কিন্তু দাওয়াত পায়নি এটা আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত।’
এদিকে, কালামকে ইঙ্গিত করে বাবুর এমন পাল্টা মন্তব্যের পর সোনারগাঁয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দুই প্রার্থীর এমন তীর্যক মন্তব্যের কারণে তাদের কর্মীরাও প্রভাবিত হতে পারেন। যার ফলে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর এই বাদানুবাদ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তৃণমূল কর্মীরাও।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ