১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, সকাল ৭:৪৯

কাঞ্চনে শতাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের বাড়ির পাশে বেপারীপাড়া জামে মসজিদের ২য় তলা ও ওজুখানার ছাদ থেকে ৩০ জুন বুধবার রামদা, ছোড়া, সামুরাই, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ শতাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় । এসময় কাউছার (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

রফিকুলের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা সফিকুল ইসলাম ওই মসজিদটির সভাপতি তা জানা গেছে । আটককৃত কাওসার ভোলাব করাটিয়া এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে রফিকুল ইসলামের অনুসারী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের সহকারি পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) আবির হোসেনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক পুলিশ অভিযানে অংশ নেন।

অভিযান শেষে আবির হোসেন বলেন, আধিপত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কাঞ্চনের দুটি পক্ষের মধ্যে শক্তি প্রদর্শনের মহড়া হয়েছে। সে ঘটনার রেশ ধরে বুধবার বিকেলে কিছু লোকজন কেন্দুয়া এলাকায় একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করে। এসময় সেখান থেকে দেশিয় অস্ত্রসহ কাওসার নামের এক যুবককে আটক করা হয়। পরবর্তীতে কাওসারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী কেন্দুয়ার ওই মসজিদটির দোতলায় অজুখানার ছাদ থেকে অস্ত্রগুলা উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রের মধ্যে চাইনিজ কুড়াল, দেশিয় কুড়াল, রামদা, চাপাতি, সামুরাই, বল্লমসহ নানান ধরনের ১১০ পিস দেশিয় অস্ত্র রয়েছে বলে জানান তিনি।

এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে আবির হোসেন বলেন, আটক কাওসারকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এসব অস্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাক্তি যতো শক্তিশালীই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে এসব অস্ত্রের সঙ্গে রফিকুল ইসলাম ও তার দুই ভাইয়ের সম্পৃক্ততা আছে বলে অস্ত্র উদ্ধারের পর দাবি করেন কাঞ্চন পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল। তিনি বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম ও তার দুই ভাই মিলে কাঞ্চনকে সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিনত করেছে। কেবল দেশিয় অস্ত্র নয়, বিভিন্ন সময় তার ভাইয়ের নেতৃত্বে এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা গেছে। মঙ্গলবারও কাঞ্চনে ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়েছে। পুলিশকে সেসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।’ আটক কাওসারকে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী দাবি করে গোলাম রসুল বলেন, ‘সফিকুলের বাহিনীতে কাওসারের মতো এমন শতাধিক লোক রয়েছে। তারা কাঞ্চনসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়।’

মেয়র রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গোলাম রসুল রাজনৈতিক কারনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। এসব অস্ত্র আমার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আমার প্রতিপক্ষের লোকজন রেখে গেছে । তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মসজিদে প্রতিপক্ষের লোকজন কিভাবে এতো অস্ত্র রেখে গেলো জানতে চাইলে রফিকুল বলেন, ‘ এটা চিন্তার বিষয়।’

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ