১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, বিকাল ৫:০৮

ওদের রুখবে কে

সংবাদচর্চা রিপোর্ট

ফতুল্লায় দিন দিন গ্যাং কালচার বেড়েই চলছে। অলিতে গলিত কিশোর যুবারা গ্যাং বানিয়ে মহড়া দিচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ ঘটনায় লোহার রড, রাম দা, সুইচ গিয়ার চাকু, তেরোয়াল, চাপাটিসহ অস্ত্র নিয়ে পাড়া মহল্লা আতংক সৃষ্টি করছে। পুলিশ বলছে, লোহার রড, চাকু উদ্ধার করা হয়েছে ও পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে। নাগরিক কমিটির নেতাদের দাবি, উৎসদের না থামালে গ্যাং কমবে না।

সূত্রে জানা গেছে, উত্তর মাসদাইর গাবতলী এলাকায় দিনে দুপুরে লম্বা তলোয়ার নিয়ে এক যুবককে রাস্তায় হম্বিতম্বির ভিডিও চিত্র দেখে অনেকেই বিষ্মিত। জানা যায়, সাবেক ফুটবলার গোলাম গাউসের ছেলে গাউস উৎস সেদিন তলোয়ার নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন নূরজাহান বেগম নামের এক নারী। অভিযোগে নূরজাহান বেগম উল্লেখ করেন, উৎস তার সহযোগীদের ধাওয়া করে। তাদের কাছে তলোয়ার, চাকু, ক্ষুর সহ দেশীয় অস্ত্র ছিলো। তারা তার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

অপরদিকে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফতুল্লা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ মান্নান বাহিনী ও স্থানীয় আমান গ্রুপ মুসলিমনগর নয়াবাজার ও সাত ভাই মাকেট এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিয়েছে। ডিস, ইন্টারনেট ব্যবসা,ইট-বালু সহ ব্যবসা করায়ত্তসহ এলাকায় অধিপত্য বিস্তাররের জন্য উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবার এক ভিডিওতে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যা এলাকার পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে তারা স্থানীয় নেতাদের সেল্টারে এগুলো করছে।

এর আগে আগে ফতুল্লায় প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে এক কিশোরের উৎফুল্লভাবে গুলি ছোড়ার ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ফেইসবুকে ‘ভিডিওটা দেখা গেছে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সোহান নামের ওই কিশোর। পরে জানা গেছে সে ফতুল্লার পাগলা বৌবাজার এলাকার কালা জাহাঙ্গীরের ছেলে সে।

ইসদাইরে ভাংচুরের পর কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। মাসদাইর ঘোষেরবাগে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ও গ্যারেজে হামলার পর কিশোর গ্যাং সদস্য ফেরদৌসসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।

গত ১৯ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের আটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং গ্রুপের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। ওই সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে ১টি দেশীয় ধারালো চাপাতি ও ২টি গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। তাদের বয়স ছিলো ১১ থেকে ১৬ বছরেরমধ্যে। আরেক ঘটনায় ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের আদর্শ নগর এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ইসমাইল হোসনে (১৭) নামে কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করেছিলো পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক জানান, ফতুল্লার পাড়া মহল্লায় কিশোর গ্যাং বেড়েই চলছে। ফতুল্লার ওসি কি দেখেনা। তিনি যদি দেখেন তাহলে কিশোর গ্যাং বাড়ছে কেন। এবি সিদ্দিক বলেন, কয়েকদিন আগে উত্তর মাসদাইর গাবতলী এলাকায় দিনে দুপুরে লম্বা তলোয়ার নিয়ে উৎস নামে এক যুবক মহড়া দিয়ে এলাকাবাসিকে আতংকিত করেছে। উৎসদের না থামালে গ্যাং কমবে না। তিনি আর বলেন, বিভিন্ন পাড়া মহল্লাগুলোতে অস্ত্র রয়েছে কিন্তু পুলিশ তা পায় না। তুচ্ছ ঘটনা ঘটলেই দেখা যায় ওরা অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। এ নাগরিক নেতার মতে, পুলিশের উচিৎ এ বিষয়ে আরও কঠোর হওয়া।
তবে তলোয়ার নিয়ে উৎসের ভিডিও প্রকাশের পর ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানিয়েছিলেন, ওই ঘটনায় লোহার তৈরি কাঠের বাট যুক্ত দা, লোহার রড, চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিক বলেছেন, এলাকার কোন কিশোর গ্রুপ থাকতে পারবে না। কিশোর গ্যাং রাস্তায় এলে আপনারা পুলিশ কে জানাবেন।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকা কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়ায় জিসান ও মিহাদ নামে ২ শিক্ষার্থীর নদীতে ঝাপ নিয়ে মারা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই দিন বিকেলে কিশোর গ্যাংয়ের সাথে ঝগড়া হয় তাদের। সেখান থেকে ধাওয়া খেয়ে নৌকায় উঠে পরে গ্যাংয়ের সদস্যরা নৌকার পিছু নিলে তারা নদীতে ঝাপিয়ে পরে নিখোঁজ হয়। রাতে স্থানীয়রা নদীতে তল্লাসী করে তাদের লাশ উদ্ধার করে। তবে নিহত জিসানের বাবা কাজিম উদ্দিনের দাবি, জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার কারনে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি থানায় করা মামলার এজাহারে তাই উল্লেখ করেছেন। মামলা রুজুর পর পুলিশ ৬জন কে গ্রেপ্তার করেছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ